নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ২২:০৯

বিশ্বনাথ ও গোলাপগঞ্জকে সিউকের আওতার বাইরে রাখার দাবি লুনা ও এমরানের

মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। তার আগেই সিলেট নরেসহ আশপাশের চারটি উপজেলাকে সিউকের আওতায় আনার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলাকে সিউকে অন্তর্ভুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন ওই দুই উপজেলার দুই সংসদ সদস্য তানহসীনা রুশদীর লুনা ও এমরান আহমদ চৌধুরী। তাদের মতে, দূরের উপজেলা সিউকের আওতায় নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাগরিক সেবা পেতে সিলেট নগরে আসতে হতে পারে। এতে সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয় হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তারা এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক গুলজার আহমদ।

সিলেট-৬ আসনের (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতা বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই প্রস্তাবে গোলাপগঞ্জ উপজেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্বশীলদের সামনেই বলছি, এই কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার যে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে গোলাপগঞ্জকে বাদ দিতে হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সদর এলাকার মানুষের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দূরের কোনো উপজেলাকে যুক্ত করে সেখানকার নাগরিক সেবা ব্যাহত করার প্রয়োজন নেই।’

তাই গোলাপগঞ্জকে সিউকের সঙ্গে যুক্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।

একই অনুষ্ঠানে সিলেট-২ আসনের (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজের পরিধি বাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ওই পরিকল্পনায় তার সংসদীয় আসনের বিশ্বনাথ উপজেলার নামও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন ‘আমার আহ্বান থাকবে, এই সংস্থার সঙ্গে আমার সংসদীয় আসন বিশ্বনাথ উপজেলাকে যুক্ত করবেন না। বিশ্বনাথের নাগরিকদের যেন নাগরিক সেবা নিতে সিলেট শহরে আসতে না হয়, সেটিই তিনি চান। স্থানীয়ভাবে সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকলে এতে মানুষের সময় ও অর্থ দুইই সাশ্রয় হবে।’

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এই সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালেক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সভাপতিত্ব করেন।

এরআগে রোববার দুপুরে অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিউক’র পক্ষ থেকে জানানো হয়- সিউকের আওতাধীন এলাকা নির্ধারণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এতে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশন এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত এলাকার আয়তন প্রায় ১ হাজার ১৬৮ বর্গকিলোমিটার।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত