০৯ অক্টোবর, ২০১৮ ১৬:১২
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে ভারত থেকে অনুপ্রবেশের দায়েরকৃত মামলায় শাস্তি দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট।
কুড়িগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ থেকে শহিদুল আলমকে শাস্তি হিসেবে জরিমানা করা হয়। ভারত থেকে নিজ দেশ বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে তাকে জরিমানা করে কুড়িগ্রামের আদালত।
এ বিষয়ে শহিদুল আলমের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।
রিট আবেদনে বলা হয়, ছবি তুলতে গিলে কুড়িগ্রাম সীমান্ত থেকে ২০০৯ সালের ১৬ জুন ভারতীয় বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়। এ নিয়ে পতাকা বৈঠকের পর তাকে বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সেই সময় কুড়িগ্রাম ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলায় তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে শাস্তি হিসেবে জরিমানা করা হয়, যা অবৈধ। কারণ তিনি বাংলাদেশি। নিজ দেশে কখনই অনুপ্রবেশ হতে পারে না।
৫ আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে একদল লোক শহিদুলকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। এর পর তাকে রমনা থানায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ড. শহিদুল আলম নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট শহিদুল আলমকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করলে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ১২ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।
আপনার মন্তব্য