সিলেটটুডে ডেস্ক

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:০৬

রায় ‘ফরমায়েশি’, প্রত্যাখ্যান বিএনপির

ফরমায়েশি' ও 'প্রতিহিংসার' রায় উল্লেখ করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। 

বুধবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর দলের প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রায় প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান।

তিনি বলেছেন, এ রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ রায় দেওয়া হয়েছে।

মহাসচিব বলেন, জাতির জন্য দুর্ভাগ্য, এ রায়ের মাধ্যমে সরকার আরো একটি নোংরা প্রতিহিংসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। যেভাবে করা হয়েছিল মিথ্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে।

ফখরুল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, এ দেশে সাধারণ কোনো মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সাবজেলে ছিলেন, তখন মামলার সাক্ষ্যে তারেক রহমান বা বিএনপির কারো নাম উল্লেখ করেননি। তখন তিনি এ ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করেছিলেন। অথচ ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অবসরে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দকে নিয়োগ দিয়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে, যা সম্পূর্ণ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।

বিএনপির এ নেতা বলেন, এখন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কথায় বলতে হয়, যে দেশে প্রধান বিচারপতি ন্যায়বিচার পান না, সে দেশে নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করা যায় না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ,আমরা দেশের জনগণকে আহ্বান জানাব রাজপথে এসে এ অনির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।’

কোনো কর্মসূচি দেবেন কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে, পাশাপাশি আইনি কর্মসূচিও থাকবে। তবে সেটি পরে জানতে পারবেন আপনারা।’

আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে আজ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। ৪৯ আসামির মধ্যে বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

ফাঁসির আসামির মধ্যে আরো রয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তখনকার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, মাইন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মাইন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপিদলীয় সাবেক সাংসদ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী প্রমুখ। খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউকসহ বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত এ রায় দেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তাঁর শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত