০৪ আগস্ট, ২০১৫ ১৯:০৮
বাংলাদেশে পুঁজি বাজার বা শেয়ার ব্যবসা সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া স্বত্বেও হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছেন।
এই গুজব ছড়ানোর দায়ে সোমবারই এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
ফেসবুক-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অপরাধে মাহবুব সারওয়ার নামে এক ব্রোকারেজ কর্মকর্তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
পুঁজি বাজার সংক্রান্ত অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনালটি গঠনের দেড় মাসের মাথায় প্রথম এই রায়টি এলো।
এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি পরিচালনা করা হয়।
কিন্তু ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পুঁজি বাজার নিয়ে নানা পাতায় ভর্তি জনপ্রিয় এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমটি।
এসব পাতার অধিকাংশ পোস্টই নানা রকমের গুজব আর ভবিষ্যদ্বাণী সংক্রান্ত।
'বিডি স্টক ডিসকাশন' নামে একটি ফেসবুক পাতায় দেখা যাচ্ছে সেখানে বাজারের পূর্বাভাস দিয়ে পোস্ট দেয়া হচ্ছে।
'বাংলাদেশ স্টক মার্কেট শেয়ার বিজনেস' নামে আরেকটি পাতায় দেখা যাচ্ছে এই পাতার ব্যবহারকারীরা ক্রেতাদের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনতে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং যারা পরামর্শ শোনেননি তারা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে।
'স্টক অ্যাভেঞ্জার্স' এবং 'শেয়ার আড্ডা' নামে দুটি গোপন সম্প্রদায়ের (ক্লোজড গ্রুপ) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুকে যেগুলোতে সদস্য হবার জন্য অনুরোধ পাঠাতে হয়।
শেয়ার আড্ডার হোমপেজে গিয়ে দেখা যায়, সদস্যরা বিভিন্ন শেয়ারের দাম হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং পরামর্শ আদান প্রদান করছেন।
এই গ্রুপটিতে শেয়ারের দর নিয়ে ভবিষ্যদ্বানী করবার প্রমাণ মেলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেসবুকের কোনও পাতায় শেয়ার বাজার সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী করাও গুজব ছড়ানোর সমতুল্য অপরাধ।
পুঁজি বাজার নিয়ে গবেষণা করেন সিপিডির গবেষক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'বাংলাদেশের পুঁজি বাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগটি বেশ পুরনো। বিরাট চক্র এই কাজে সক্রিয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশের পুঁজি বাজারে যে বিরাট ধ্বস নেমেছিল তার জন্যে অনেকাংশেই দায়ী ছিল গুজব'।
'এখন ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়টি আসার ফলে এসব গুজব সৃষ্টিকারীদের কাছে বার্তা পৌঁছাবে। তবে ট্রাইব্যুনালের উচিত হবে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিচারের আওতায় না এনে স্বতঃপ্রণোদিত কিছু উদ্যোগও নেয়া'।
বার্তা যে পৌঁছেছে তার নজিরও পাওয়া যাচ্ছে ফেসবুকের একটি পাতায়।
জাহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি সেখানে সোমবারের রায়ের খবরটি দিয়ে লিখেছেন 'আইটেম-ওয়ালারা পালাইছে'।
তবে ড. মোয়াজ্জেম যে 'গুজব চক্রের' কথা বলছেন, তার সাথে এইসব ফেসবুক ব্যবহারকারীরা জড়িত রয়েছেন নাকি না জেনে না বুঝে তারা এই গুজব ছড়ানোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন সেটা স্পষ্ট নয়। সূত্র : বিবিসি বাংলা
আপনার মন্তব্য