০৯ আগস্ট, ২০১৫ ১২:০৭
টানা উন্নতির পর এবার ধাক্কা লেগেছে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। সারাদেশেই কমেছে জিপিএ-৫ ও পাসের হার। দুই ক্ষেত্রেই এই অবনতির জন্য এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী।
উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার জন্য বছরের শুরুতে বিএনপি ও জামায়াতের টানা হরতাল-অবরোধ ও জ্বালাও-পোড়াওকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “এখানে দুর্ভাগ্য, বিএনপি-জামাত যদি আত্মঘাতীমূলক জ্বালাও-পোড়াও কর্মকাণ্ড না করত, পাসের হার আরও ভালে হতে পারত।”
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রোববার সকালে ফলাফলের ডিজিটাল অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন।
তিনি জানান, এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২ হাজার ৮৯৪ জন। গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ; ৭০ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ, অর্থাৎ ৫ এ ৫ পেয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেদিন থেকে পরীক্ষা শুরু… আগে থেকে হরতাল তো ছিলই এর সাথে অবরোধ যুক্ত হল। এরপর শুরু হল মানুষ খুন করা। হরতালের নামে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা।”
এই প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে পাস করায় ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সবাইকে অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, “যারা পাস করেনি, আশা করি তারা ভালোমত লেখাপড়া করে পরেরবার পাস করবে।”
এছাড়া প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নের কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।
“যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন চাইতে আসেন, আমরা তাদের বলছি, যেসব এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসকল এলাকায় যেন প্রতিষ্ঠা করা হয়, বিশেষ করে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।”
প্রধানমন্ত্রী ওই পরিস্থিতির মধ্যে পড়াশোনা করে কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়ে পাস করায় শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি অভিভাবকদেরও অভিনন্দন জানান। বিজ্ঞানে পাসের হার বাড়ায় এবং মেয়েরা ভালো ফল করার বিষয়টিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত মানুষ পুড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ওই অবস্থায় পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার দুই মাস পূর্ণ হওয়ার একদিন আগেই আজ ফল প্রকাশ করা হলো। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার ওপর জোর দেয় বলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার বিস্তারে তাঁর সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল-কলেজ নেই, সেখানে একটি করে নতুন স্কুল-কলেজ বা পুরোনো স্কুল-কলেজের কোনো একটিকে সরকারি করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত জনগোষ্ঠী না হলে দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হতে পারে না। তাঁর সরকার তাই নানাভাবে শিক্ষার বিস্তারে কাজ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
আপনার মন্তব্য