০৯ আগস্ট, ২০১৫ ১৩:৩০
আদালত অবমানার অভিযোগে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ ও কলাম লেখক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে সোমবার।
আদালত অবমাননার রুল ইস্যুর পর থেকে এ পর্যন্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা নিয়ে জনকণ্ঠ পত্রিকায় যত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা সোমবার দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
এর আগে এ দুজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করে আপিল বিভাগ। ওই সময়ের মধ্যে তাদেরকে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
তখন দুই সাংবাদিকের পক্ষে করা তিন মাসের সময়ের আবেদনও নাকচ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের গঠিত বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে রবিবার (৯ আগস্ট) এসব আদেশ দেন। একইসঙ্গে জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুল জারির পর থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কপি আনতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আদেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
আদালতের তলবে রুলের জবাব দিতে হাজির ছিলেন জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ও নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়। জনকণ্ঠের পক্ষে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড শিরিন আফরোজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
পরে জনকণ্ঠের আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন সাংবাদিকদের বলেন, আজকে (রবিবার) আমরা দু’টি আবেদন উপস্থাপন করেছি। একটি হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে বেঞ্চ গঠন। আদালত সেটা খারিজ করে দিয়েছেন। আরেকটি আবেদন হচ্ছে রুলের জবাব। সোমবার আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চে বসবেন।
গত ১৬ জুলাই ‘সাকার পরিবারের তৎপরতা।। পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করে দৈনিক জনকণ্ঠ। এর লেখক নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়।
জনকণ্ঠের ওই কলামের একটি স্থানে বলা হয়েছে-
‘পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশান। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। কী ঘটতে যাচ্ছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডন’।
কলামের এসব বক্তব্যে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জুলাই সুয়োমোটো রুল জারি করেন আপিল বিভাগ। ৩ আগস্ট হাজির হয়ে এ রুলের জবাব দাখিলের জন্য তাদেরকে তলব করা হয়। ৩ আগস্ট তারা হাজির হয়ে জবাবের জন্য প্রথমে তিন মাস এবং পরে দুই সপ্তাহ সময় চাইলে তা নামঞ্জুর করে রবিবারের মধ্যে জবাব দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
আপনার মন্তব্য