১০ আগস্ট, ২০১৫ ০১:০২
এর আগে তিন দফায় মিয়ানমার থেকে ৩৪২ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনার পর চতুর্থ দফায় আরও ১৫৯ জনকে ফেরত আনছে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ান (বিজিবি)। এরা অবৈধভাবে বিদেশ যেতে ট্রলারে চড়ে সাগরপথে যাত্রা করে মিয়ানমারে আটক হয়েছিলেন।
কক্সবাজার বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত আনা হবে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের জিরো পয়েন্টের বিপরীতে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়ায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বিজিবি কর্মকর্তাদের এ পতাকা বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।
গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ২০৮ জন এবং ২৯ মে আরও ৭২৭ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করে দেশটির নৌ-বাহিনী। তাদের মধ্যে তিন দফায় দেশে ফেরত আনা হয়েছে ৩৪২ জনকে। চতুর্থ দফায় এই ১৫৯ জনকে সোমবার দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তা রবিউল বলেন, এর আগে গত ৩০ জুলাই এদের ফেরত আনার কথা থাকলেও কক্সবাজারসহ উপকূলীয় কয়েকটি জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা করে ৫ অগাস্ট দেশে ফেরত আনার পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়।
তবে এর মধ্যে মিয়ানমারে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সৃষ্ট বন্যার কারণে গত ৪ অগাস্ট এই বাংলাদেশিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া দ্বিতীয়বারের মতো স্থগিত করা হয় বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ন্যাশনাল প্রোগাম অফিসার আসিফ মুনীর জানান, বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত ১৫৯ জনকে দেশে ফেরত আনতে আইওএমর পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এ বাংলাদেশিরা দেশের সীমান্তে প্রবেশের পর থেকে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও যাতায়াত খরচসহ সব ধরনের মানবিক সহায়তা আইওএম দেবে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ বলেন, পতাকা বৈঠক শেষে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্তদের ঘুমধুম সীমান্ত থেকে বাসে করে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে আসা হবে। ওখানে ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট কাজ শেষে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।এরপরই তাদের বাড়িতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
আপনার মন্তব্য