১০ আগস্ট, ২০১৫ ১৬:১৯
ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় (নিলয় নীল) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি, এমনকি কাউকে সনাক্তও করতে পারেনি। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর পরই দায় স্বীকার করা ইমেইল বার্তাগুলো বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ব্লগার হত্যার তদন্ত নিয়ে রবিবার ডিবির সঙ্গে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) তিনজন প্রতিনিধি। এদিকে নীলাদ্রির শেষকৃত্য গত শনিবার রাতে তাঁর গ্রামের শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর গোড়ানের ভাড়া বাসায় ব্লগার নীলাদ্রিকে কুপিয়ে হত্যা করেন চারজন। হত্যাকারীরা নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার বলে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার পর সে স্থান ত্যাগ করে বলে জানিয়েছেন নিহত নিলয়ের স্ত্রী আশামনি।
এ নিয়ে চলতি বছরে চারজন ব্লগারকে একইভাবে হত্যা করা হলো। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অভিজিৎ রায়, ৩০ মার্চ তেজগাঁওয়ের দক্ষিণ বেগুনবাড়ীতে ওয়াশিকুর রহমান এবং ১২ মে সিলেট নগরের সুবিদ বাজারে অনন্ত বিজয় দাশ খুন হন।
রবিবার দুপুরে মিন্টো রোডে ডিবির কার্যালয়ে এফবিআইয়ের তিনজন প্রতিনিধি ডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্লগার হত্যার তদন্ত নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম, ডিবির চারজন উপকমিশনার ও মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার।
ওই বৈঠকের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপকমিশনার (পূর্ব) মাহাবুব আলম বলেন, অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল এটি। বৈঠকে নীলাদ্রি হত্যার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এফবিআই কারিগরি সহায়তা করতে চেয়েছে। কোন বিষয়ে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে, ডিবির পক্ষ থেকে তা বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপকমিশনার মাহাবুব বলেন, অভিজিৎ হত্যার বিষয়ে এফবিআই কী সাহায্য করল, সেটা এখনই বলা ঠিক হবে না। তাঁরা কিছু কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। আর যে ১১টি আলামত এফবিআইয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল, তার প্রতিবেদন এখনো পায়নি ডিবি। ওই প্রতিবেদনগুলো দ্রুত পাঠানোর জন্য এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে।
মাহাবুব আলম বলেন, নীলাদ্রি হত্যার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমে যে ই-মেইলগুলো এসেছে, তা বাংলাদেশ থেকেই পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হত্যাকারী ও ই-মেইলের প্রেরক একই গোষ্ঠীর কি না, তা নিশ্চিত নয়। সেসব নিয়ে তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, মামলার প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্ত চলছে। অপরাধস্থল থেকে পাওয়া আলামত পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে যে পোশাক ও গামছা পাওয়া গেছে, সেগুলো হত্যাকারীদের বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রযুক্তিগত তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে ডিবির কয়েকটি দল।
ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ওই বার্তাগুলো এসেছে বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। এখন বার্তা প্রেরককে খোঁজা হচ্ছে।
এদিকে মামলার তদন্তভার থানা পুলিশ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আপনার মন্তব্য