সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ আগস্ট, ২০১৫ ১০:৫২

জনকণ্ঠের আদালত অবমাননা প্রমাণিত : সম্পাদক-নির্বাহি সম্পাদক দণ্ডিত

দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও নির্বাহি সম্পাদক আদালত অবমাননা প্রমাণিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করেছেন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ।

শাস্তি হিসেবে তাদেরকে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতে অবস্থান করা এবং প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন সর্বোচ্চ এই আদালত।
জরিমানা অনাদায়ে সাতদিনের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে জনকণ্ঠের সম্পাদক-নির্বাহী সম্পাদককে। দশ হাজার টাকা করে মোট বিশ হাজার টাকা কোনো দাতব্য সংস্থাকে দিতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত রবিবার (৯ আগস্ট) রুলের শুনানির পর আজ রায়ের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আপিল বিভাগ। এর আগে গত ২৯ জুলাই স্বপ্রণোদিত হয়ে জনকন্ঠ সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন আপিল বিভাগ।

‘পালাবার পথ কমে গেছে’ শিরোনামে ১৬ জুলাই জনকণ্ঠ পত্রিকায় উপ-সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। যার লেখক ছিলেন পত্রিকার নির্বাহি সম্পাদক স্বদেশ রায়।
জনকণ্ঠের ওই কলামের একটি স্থানে বলা হয়েছে,

‘পিতা মুজিব! তোমার কন্যাকে এখানেও ক্রশে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই যদি না হয়, তাহলে কিভাবে যারা বিচার করছেন সেই বিচারকদের একজনের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা? তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? ভিকটিমের পরিবারের লোকদেরকে কি কখনও কোন বিচারপতি সাক্ষাৎ দেয়। বিচারকের এথিকসে পড়ে! কেন শেখ হাসিনার সরকারকে কোন কোন বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়। যে সফরের উদ্যোক্তা জামায়াত-বিএনপির অর্গানাইজেশান। কেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী আগে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেয়। কী ঘটতে যাচ্ছে সেখানে। ক্যামেরনই পরোক্ষভাবে বলছেন সকল সন্ত্রাসীর একটি অভয়ারণ্য হয়েছে লন্ডন’।

কলামের এসব বক্তব্যে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ওই দু’জনের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ২৯ জুলাই সুয়োমোটো রুল জারি করেন আপিল বিভাগ। ৩ আগস্ট হাজির হয়ে এ রুলের জবাব দাখিলের জন্য তাদেরকে তলব করা হয়। ৩ আগস্ট তারা হাজির হয়ে জবাবের জন্য প্রথমে তিন মাস এবং পরে দুই সপ্তাহ সময় চাইলে তা নামঞ্জুর করে রোববারের (৯ আগস্ট) মধ্যে জবাব দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।

ওই উপসম্পাদকীয় প্রকাশের ব্যাখ্যা চেয়ে ২৯ জুলাই সম্পাদক আতিকুল্লাহ খান মাসুদ ও কলাম লেখক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে আদালত আবমাননার রুল জারি করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল।
৯ আগষ্ট রুল শুনানির প্রথম দিনে ৪ বিচারপতি থাকলেও দ্বিতীয় দিনে শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে।

ওই আদালতের নির্দেশে অ্যাটর্নি জেনারেল স্বদেশ রায়ের নিবন্ধ পড়ে শোনান।

এর এক জায়গায় বলা হয়েছে, বিচারকদের একজনের সঙ্গে দেখা করেছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের লোকেরা। তারা কোন পথে বিচারকের কাছে ঢোকে, আইএসআই ও উলফা পথে না অন্য পথে? কেনো শেখ হাসিনার সরকারকে কোনো কোনো বিচারপতির এ মুহূর্তের বিদেশ সফর ঠেকাতে ব্যস্ত হতে হয়?

রবিবারের শুনানিতে আদালতের আদেশে জনকণ্ঠের পক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড শিরিন আফরোজ ওই কলামের বিষয়ে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী সম্পর্কে জনকণ্ঠে প্রকাশিত সকল প্রতিবেদনের কপি দাখিল করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতের আদেশে জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে রুল জারির পর থেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কপি দাখিল করেন।

জনকণ্ঠের আইনজীবী সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, সত্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা রিপোর্ট আদালত অবমাননা নয়। জনকণ্ঠ আদালত অবমাননা করেনি। তাই আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রধান বিচারপতিকে বিদেশে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না- তা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চেয়েছিলেন আপিল বিভাগ। তিনি শুনানিতে বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জেনেছি, প্রধান বিচারপতিকে বিদেশ যেতে কখনো বাধা দেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, জনকণ্ঠের কলামে আদালত অবমাননা হয়েছে। এজন্য তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত