সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ আগস্ট, ২০১৫ ২৩:২৬

সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারনেই ব্লগারদের উপর হামলা : জয়

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ব্লগারদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে নিজের পেজ থেকে এক স্ট্যাটাসে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন জয়।

সন্ত্রিসবাদিরা ‘দুর্বল’ হয়ে বিচ্ছিন্নভাবে ব্লগারদের উপর হামলা চালাচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীপুত্র।

স্ট্যাটাসে জয় লেখেন, “বাস্তবতা হচ্ছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের সফল যুদ্ধের কারণেই ব্লগারদের এই হত্যাকাণ্ডের মত ঘটনাগুলো ঘটেছে। সন্ত্রাসীরা ব্যাপক আকারে হামলা চালাতে ব্যর্থ হয়েই এসব বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়েছে।”

ব্লগার হত্যায় জড়িতদের ধরতে ব্যর্থতার জন্য সমালোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে ‘অনেক তথ্যই’ তারা প্রকাশ করেননি।

ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আমরা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলছে। আমরা বেশ কিছু তথ্য উন্মুক্ত করিনি যেন তদন্তগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

‘এ ধরনের একক পরিকল্পনাগুলো উন্মোচন করাটা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি কঠিন’ মন্তব্য করে দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিকারীদের ‘বোকা’ বলেছেন তিনি।

জয় লিখেছেন, “যেসব লোকেরা তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার দাবি করেন তারা অবুঝ বোকা লোক।”
গত ৭ অগাস্ট ঢাকার গোড়ানে ঘরে ঢুকে ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যাকাণ্ডের পর সপ্তাহ পেরোলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়নি পুলিশ।

এর আগে গত ছয় মাসে লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু ও অনন্ত বিজয় দাশ খুন হন। গত মার্চে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুরকে হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে জনতা দুজনকে ধরে পুলিশে দেয়। তারপরও মুক্তমনা এই লেখকদের হত্যাকাণ্ডের কোনোটিরই কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

এরইমধ্যে নিজের ঘরে নিলয় খুন হওয়ার পর দেশ বিদেশে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যে গত রোববার পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ব্লগার-অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের লেখালেখিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। দুদিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও একই সুরে কথা বলেন। লেখায় কারও ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাত দেওয়া হলে বিচারের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

একের পর এক ব্লগার হত্যা এবং বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‍ও পুলিশ প্রধানের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে বাক স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে নানা মহল থেকে সমালোচনা হচ্ছে।
সমালোচনাকারীদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয় ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কিন্তু বিভ্রান্ত কিছু মানুষ আমাদের আওয়ামী লীগ সরকারকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন এই জন্য যে সম্প্রতি আমাদের দেশে হত্যার শিকার হওয়া ৪ জন ব্লগারের বিষয়ে কিছুই করছি না। এই মানুষগুলো মনে হচ্ছে কিছুই বুঝতে চাইছেন না।”

“কাদের গ্রেপ্তার করা উচিত আমাদের? যাকে তাকে খেয়াল খুশিমত আমরা গ্রেপ্তার করতে পারি না। আমাদের গ্রেপ্তার করতে হবে খুনিদের। আমাদের তদন্ত তাদের দিকেই ধাবিত হচ্ছে এবং অবস্থান চিহ্নিত হওয়া মাত্র তাদের আমরা গ্রেপ্তার করব।”

কারো কাছে খুনিদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানাতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

“যদি তাদের পরিচয় এবং কোথায় আছে তা না জানেন তাহলে বিষয়টা পেশাদারদের ওপর ছেড়ে দিন,” খুনি গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি।
সরকারের সমালোচকদের নিয়ে জয় লিখেছেন, “এই মানুষগুলোই হয়তো ভুলে গেছেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে সন্ত্রাসীরা কেমন অভয়ারণ্যে ছিল। আমাদের সরকার প্রতিমাসেই অস্ত্র এবং বিস্ফোরকসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে এসেছে।

“সংশ্লিষ্ট সবই ছিল ব্যাপক আকারে হত্যার পরিকল্পনা, যা আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অংকুরেই বিনষ্ট করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না থাকলে শুধু চারজন ব্লগারই নন, হয়তো এমন শত শত এমনকি হাজারও প্রাণ আমরা হারাতে পারতাম।”

এরপর সমালোচকদের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি লিখেছেন, “তাই যেসব অবোধ আওয়ামী লীগ সরকারের নিন্দা করছেন, আপনারা আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামালে কী হবে? জঙ্গিদের হাত থেকে তখন কে আপনাদের বাঁচাতে পারবে?”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত