সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ আগস্ট, ২০১৫ ১৪:৩২

প্রবীর সিকদার মুক্ত না হলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারি ডিইউজে’র

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিকরা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ আয়োজিত এ সমাবেশে যোগ দিয়েছে অপর অংশও।

রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে প্রবীর সিকদারকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা থেকে সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে তাকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হচ্ছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের স্ত্রী অনিতা সিকদার এবং দুই ছেলে সুপ্রিয় সিকদার ও পুলক সিকদার। এছাড়া সংহতি জানিয়ে উপস্থিত হন গণজাগরণ মঞ্চ একাংশের মুখপাত্র কামাল পাশা চৌধুরী, মাহমুদুল হক মুন্সি বাঁধন, বাপ্পাদিত্য বসু প্রমুখ।

ডিইউজের একাংশের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদের নেতৃত্বে সমাবেশ শুরুর পর পরই অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আশিস কুমার দে, সাগর লোহানী, অমিয় ঘটক পুলক প্রমুখ।

প্রবীর সিকদার নিউজপোর্টাল উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এবং বাংলা দৈনিক বাংলা ৭১ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পত্রিকা দু’টির কার্যালয় থেকে তাকে রবিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে বিকেলে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় ওই মামলাটি দায়ের করেন ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ নেতা এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল।

সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে রবিবার রাতে বিনা নোটিশে তার পত্রিকার কার্যালয় থেকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাখ্যা না পেয়ে রাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিইউজে। সঙ্গে সঙ্গে সোমবারের প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয় সংগঠনটি।

রোববার রাতে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহবান জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ।

তিনি ওই পোস্টে লেখেন, রোববার দিবাগত রাতের মধ্যে প্রবীর সিকদারকে সসম্মানে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া না হলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) বাধ্য হবে তার মুক্তির দাবিতে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি দিতে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিতও ছিলেন প্রবীর শিকদার। গত ১০ আগস্ট এ নিয়ে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে প্রবীর শিকদার লিখেন-

“আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন :
১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি
২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের
৩. ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।”

দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সেই রাজাকার’ কলামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুসা বিন শমসেরের বিতর্কিত ভূমিকার বিবরণ তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার, যার পরিবারের ১৪ জন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।

তখন হামলার পর মামলায় মুসাকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রবীর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় শিকদার রবিবার রাতে অভিযোগ করেন- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন প্রভাব খাটিয়ে স্বপন পাল নামক এক আইনজীবিকে দিয়ে মামলা করিয়েছেন। মন্ত্রী প্রবীর সিকদারকে অকথ্য ভাষায় গালগালও করেছেন বলে জানান তাঁর ছেলে।

তিনি ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের যুদ্ধাপরাধে সম্পৃক্ততা এবং বাচ্চু রাজাকারকে নিয়ে অনেকগুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেন। লেখালেখির কারণে ২০০১ সালে আক্রমণের শিকার হয়ে তিনি পা হারাতে হয় প্রবীর সিকদারকে।

এছাড়াও তিনি ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই (মেয়ের শ্বশুর) এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কর্তৃক হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর দখলের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসছিলেন, যে অভিযোগটি প্রথমে করেছিল বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ। তাঁর এ লেখালেখির পর মন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন- হিন্দু ঐ পরিবারটি ভারত চলে গেছে।

এর বাইরেও প্রবীর সিকদার সাম্প্রতিক সময়ে এমজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ের নির্যাতন নিপিড়নের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসছিলেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত