সিলেটটুডে ডেস্ক

৩০ জুন, ২০১৯ ২০:০৪

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বন্ধে ছয় মাসের মধ্যে নীতিমালা চায় হাই কোর্ট

সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ করতে বন্ধ ছয় মাসের মধ্যে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ রোববার (৩০ জুন) বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

অপ্রয়োজনীয় সিজার রোধে নির্দেশনা চেয়ে আদালতে রিট আবেদন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রাসনা ইমাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পূরবী রানা সাহা।

পরে ব্যারিস্টার রাসনা ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দেশে অনেক বেশি পরিমাণ সিজার হচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা র (ডাব্লিউএইচও) সুপারিশ হচ্ছে শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগের বেশি সিজার কোন দেশে হতে পারে না। সেখানে আমাদের দেশে ৩১ শতাংশ সিজার হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে ৮৩ শতাংশ, সরকারি হাসপাতালে ৩৫ শতাংশ, এনজিও হাসপাতালে ৩৯ শতাংশ সিজার হয়ে থাকে। এভাবে সিজার বৃদ্ধি পাওয়া আমাদের জন্য সতর্ক সংকেত বলেও উল্লেখ করেন এ আইনজীবী। এটা থামাতে এই মামলা করা।

মামলার শুনানি নিয়ে আদালত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এক মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করে তা আদালতে দাখিলের করতে বলেছেন আদালত। ওই নীতিমালার মূল বিষয় হবে মেডিকেলি  অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশনগুলো হচ্ছে তার হার বাড়ছে তা কমানো।

এক প্রশ্নের জবাবে এ আইনজীবী বলেন, শুনানিতে আমরা চায়না এবং ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে আদালতে বলেছি, চায়নায় সিজারের বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় ছিল। পরে তাদের সরকারি নীতিমালার কারণে সিজারের মাত্রা কমে যাচ্ছে। যেমনটি ব্রাজিলেও হয়েছে।

সিজারের হার বাড়ার অন্যতম কারণ হলো প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবসা করার চিন্তা বলেও আদালত মন্তব্য করেছেন বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত