০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৬
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দুই রাতে আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের ভীমসী, বাবুর বাজার, শাসন ও ভুনবীর গ্রামের বিভিন্ন মন্দির ও ঠাকুরঘরে এসব চুরি হয়। চোরেরা পিতলের মূর্তি, পিতল ও কাঁসার বাসনপত্র এবং প্রণামির বাক্সে থাকা নগদ টাকা নিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভুনবীর ইউনিয়নের ভীমসী বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন বাড়ির মন্দিরে চুরি হয়। ওই রাতে একটি সর্বজনীন ও তিনটি পারিবারিক মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে একই ইউনিয়নের শাসন গ্রামের শ্রীশ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, শ্রী মানবেন্দ্র ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘর, নারায়ণ ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘর ও সুধা ভট্টাচার্যের বাড়ির ঠাকুরঘরে চুরি হয়। এর মধ্যে একটি সর্বজনীন ও তিনটি পারিবারিক মন্দির বলে স্থানীয়রা জানান।
চোরেরা মন্দির ও ঠাকুরঘরে ঢুকে প্রণামির বাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ ছাড়া পূজায় ব্যবহৃত পিতল ও কাঁসার বাসনপত্র এবং পিতলের তৈরি মূর্তি চুরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভুনবীর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দেব চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোররাতের কোনো একসময় এসব চুরির ঘটনা ঘটে। পারিবারিক ও সর্বজনীন মিলিয়ে দুই রাতে মোট আটটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে চুরি হয়েছে।’
পাত্রকুল শ্রীশ্রী শিববাড়ি পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ জীবন দেব বলেন, চুরির ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মানুষের মধ্যে যাতে আতঙ্ক আরও না ছড়ায়, সে জন্য দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘শুক্রবার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আজ আবার ঘটনাস্থলে যাওয়া হচ্ছে। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’ তবে এখনো মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
আপনার মন্তব্য