সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ আগস্ট, ২০১৫ ২০:৪৪

স্বাধীনতাবিরোধীর নাম দুই স্থাপনা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের নামে থাকা খুলনার 'খান-এ-সবুর' সড়ক ও কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'শাহ আজিজুর রহমান' নামের একটি হলের নাম পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদেশে, খুলনা মহানগরীর 'খান-এ-সবুর' সড়কের নাম প্রত্যাহার করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজরিত বহুল প্রচলিত 'যশোর রোড' নামটি ব্যবহার করতে সিটি করপোরেশনের মেয়রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে 'শাহ আজিজুর রহমান' হলের নামও প্রত্যাহার করে নতুন নামকরণ করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।

খুলনা ও কুষ্টিয়ায় দুই স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীর নাম প্রত্যাহার চেয়ে গত ২৩ আগস্ট জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর ও অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। মঙ্গলবার ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে ২০১২ সালেও স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে থাকা স্থাপনা, সড়ক, অবকাঠামোর নামকরণ স্থগিত চেয়ে শাহরিয়ার কবীর ও মুনতাসীর মামুন একটি রিট করেছিলেন। ওই বছরের ১৪ মে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুলসহ খুলনা ও কুষ্টিয়াসহ দেশের সব স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই আদেশ যথাযথভাবে পালন না হওয়ায় খুলনা ও কুষ্টিয়ার দুটি স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম প্রত্যাহারের জন্য ২৩ আগস্ট নতুন করে আবেদন করা হয়।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার একে রাশেদুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

আদেশের পর একে রাশেদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, '২০১২ সালে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের নামে থাকা সড়ক, স্থাপনা ও অবকাঠামোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন, সেই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিলেন। ওই আদেশ যথাযথভাবে পালন না করায় খুলনা ও কুষ্টিয়ার দুটি স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি নিয়ে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে থাকা স্থাপনা থেকে তাদের নাম প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

মুসলিম লীগের নেতা খান-এ-সবুর পাকিস্তান আমলে ছিলেন আইয়ুব খানের মন্ত্রী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দালাল আইনে তালিকাভুক্ত এই রাজাকারের নামে 'যশোর রোডের' নামকরণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনা বিভাগ থেকে ভারতের কলকাতার দমদম পর্যন্ত যশোর রোড ধরে লাখো মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে। তাদের দুর্দশা দেখে মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ লেখেন তার বিখ্যাত কবিতা 'সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড', যা তখন বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর এই সড়ক হয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ কলকাতা থেকে শত্রুমুক্ত যশোরে পৌঁচ্ছেছিলেন।

এছাড়া শাহ আজিজুর রহমান ছিলেন ষাটের দশকে মুসলিম লীগ নেতা। স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কারণে ১৯৭২ সালে তাকেও দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তার নামেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত