২৮ আগস্ট, ২০১৫ ১৪:৩০
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী উল্লেখ করে সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমির এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘কালকে বিদ্যুৎ আর গ্যাসের দাম বাড়ছে। দাম বাড়তেই পারে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন সারা পৃথিবীতে অবিশ্বাস্যভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমছে, তখন আপনি দাম কমান না। যখন বাড়ে, তখন আপনি বলেন সমন্বয় করতে হবে, দাম বাড়াতে হবে। এটা ঠিক না।’
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরও বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম যখন কমছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচাও কমছে। তখন বাড়াবেন কেন? এটা অনৈতিক হয়। আমি মনে করি, দাম বাড়লে দাম বাড়াইবেন, দাম কমলে আপনি কমাবেন না। এটা কোন আইন? এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। এটা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।’
আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা রাজনীতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আশির দশকের রাজনীতি একবিংশ শতাব্দীতে অচল। হত্যা-খুনের রাজনীতি করে সরকার পরিবর্তন করা যেত। এখন সে সুযোগ নেই। আর আমাদের পক্ষ থেকে সিমপ্যাথি নিয়ে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটার দরকার নাই। দেশের রাজনীতি স্থিতিশীল আছে।’
তিনি বলেন, ‘জাসদ-আওয়ামী লীগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্ক হচ্ছে। এটা অনভিপ্রেত। জাসদের অতীত, ইতিহাস, ঐতিহ্য কী সেটা আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। জেনেই আমরা জোট বেঁধেছি। এখন অতীত টেনে লাভ কী? অতীতের ভুল-ভ্রান্তি নিয়েই আমাদের এগোতে হবে।’
তিনি বলেন, আগস্ট আসলেই আওয়ামী লীগের আবেগ বেড়ে যায়। এই বিতর্ক আগস্টের আবেগ ছাড়া কিছুই নয়। এটা নিয়ে দলীয় কর্মী ও গণমাধ্যমকে আর টানাটানি না করার আহ্বান জানান সুরঞ্জিত।
সভাপতির বক্তব্যে হাজি মো. সেলিম বলেন, শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের এমন বক্তব্যে জনমনে ভীতি ছড়াচ্ছে, জাতি বিভ্রান্ত। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকেও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা জাকির আহমাদ, আবদুল হাই কানু, হুমায়ুন কবির মিজি প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য