সিলেটটুডে ডেস্ক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ১৬:৪৬

‘অপারেশন ক্লিন হার্টে’র দায়মুক্তি আইন অবৈধ : হাইকোর্ট

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামলে পরিচালিত যৌথবাহিনীর 'অপারেশন ক্লিন হার্ট' অভিযানকে দায়মুক্তি দিয়ে করা আইনকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেন।

আদেশে বলা হয়, 'অপারেশন ক্লিন হার্টে' ক্ষতিগ্রস্তরা ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলা করতে পারবে এবং হাইকোর্টে রিট আবেদনও করতে পারবেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত 'অপারেশন ক্লিন হার্ট' অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি 'যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩' আইন করা হয়।

এই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালের ১৪ জুন হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৯ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুল দেয়।

রুলে আইনটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে 'অপারেশন ক্লিন হার্টে' ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র, আইন ও প্রতিরক্ষা সচিব, সেনা সদর দফতরের কমান্ডার ইন চিফ অব আর্মড ফোর্সেস ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয় রুলে। ওই রুলের শুনানি শেষে গত ৩১ আগস্ট আদালত ১৩ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহদীন মালিক। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম মনজুর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

রিট আবেদনকারীর যুক্তি, বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করেছে। এর ১৪ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে কেউ নির্যাতিত হলে ও এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ প্রদানে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

অথচ দায়মুক্তি আইনে বলা হয়, অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কোনো আদালতে প্রতিকার চাইতে পারবেন না। কারও বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার প্রার্থনা করা যাবে না, যা এটা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ধারণার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

আবেদনকারী বলেন, “নির্যাতিত হবে, খুন হবে কিন্তু প্রতিকার চাওয়া যাবে না—এর চেয়ে কালো ও খারাপ আইন হতে পারে না। বিচারবহির্ভূত যে কোনো হত্যাকাণ্ড আইনের শাসনের পরিপন্থি।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত