সিলেটটুডে ডেস্ক

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ২১:০৭

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার: ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা কমানো হল

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা কমানো হয়েছে। এরফলে শুরুর দিকের মত একটি ট্রাইব্যুনালেই চলবে বিচার কাজ। ২০১০ সালে একটি ট্রাইব্যুনাল দিয়ে এই বিচার শুরু হলেও কাজ গতিশীল করতে দুটি করা হয়েছিল।  মামলার সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তিন বছর পর তা আগের অবস্থায় ফেরত গেল।

এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন  আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন হয়েছে জারি করা হয় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর)।

এখন একক ট্রাইব্যুনালে নেতৃত্ব দেবেন বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক। তার সঙ্গে থাকবেন ট্রাইব্যুনালে থাকা বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম। তাদের সঙ্গে নতুন করে যোগ দেবেন হাই কোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী।ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া হাই কোর্টে ফেরত যাবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ ও ২ এর বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বিবেচনায় উক্ত ট্রাইব্যুনাল দুটিকে একীভূত করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন আবশ্যক। সে লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এ কর্মরত সদস্য বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হককে চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এ কর্মরত বিচারপতি শাহিনুর ইসলামকে সদস্য এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীকে সদস্য করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য ট্রাইব্যুনালটি পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত অগঠিত অবস্থায় থাকবে।”

তবে পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল থেকে ফেরত আসা বিচারকরা আগের মতোই নিরাপত্তাসহ আনুষাঙ্গিক সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ বিচারপতি নিজামুল হককে চেয়ারম্যান, বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীর ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এ কে এম জহির আহমেদকে সদস্য করে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এরপর আরও তিনজনকে যোগ করে প্রথম ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ টি এম ফজলে কবীরকে চেয়ারম্যান করে ২০১২ সালের ২৩ মার্চ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়।তিন সদস্যের দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক হন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং ট্রাইব্যুনালের নিবন্ধক মো. শাহীনুর ইসলাম। বিচারপতি ফজলে কবীরের স্থলে প্রথম ট্রাইব্যুনালে সদস্য করা হয় বিচারপতি আনোয়ারুল হককে।

ওই বছরের অগাস্টে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জহির আহমেদ পদত্যাগ করলে শূন্যস্থানে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেনকে নিয়োগ দেয় সরকার।স্কাইপে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথিত কথোপকথন নিয়ে বিতর্কের মুখে বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করলে ফজলে কবীরকে চেয়ারম্যান করে ১ নম্বর ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়।
তিনি অবসরে যাওয়ার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসাবে আসেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসাবে ছিলেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহীনুর ইসলাম।যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনালে ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। চলতি বছর এসেছে ছয়টি মামলার রায়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত