নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ অক্টোবর, ২০১৫ ২১:৩১

বিলাইছড়ি থেকে দুই পর্যটক অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি এএলপি’র

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সেপ্রুপাড়া  থেকে দুই পর্যটকসহ গাইড অপহৃত হওয়ার ঘটনায় মুক্তিপণ হিসাবে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)। অপহরণের এলাকাটি রাঙামাটি জেলায় হলেও যেতে হয় বান্দরবন দিয়ে। প্রসাশনিক সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয় বান্দরবনের রুমা উপজেলার মাধ্যমে।

এদিকে, অপহৃতরা জীবিত আছেন কিনা-তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। এ প্রেক্ষিতে তারা জীবিত আছেন বলে বুধবার জানিয়েছেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

গত শনিবার বিকালে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার গহিনে  সেপ্রুপাড়া থেকে থেকে অপহৃত হন ঢাকার মিরপুরের পর্যটক মুন্না (৩৫) ও জুবায়ের (২৮) এবং তাদের গাইড  মাংসাই ম্রো।

তবে, এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি।

রুমা উপজেলার টুরিস্ট গাইড বেলাল আহমদ সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন , "সেনাবাহিনীর মত সজ্জিত হয়ে মায়ানমারের বিছিন্নতাবাদি দলটি  সশস্ত্র অবস্থায় শনিবার বিকালে তাদের অপহরণ করে বলে আমরা বিভিন্ন সূত্রে খবর পেয়েছি"।

এদিকে অপহরণকারীরা দুই পর্যটককে রাঙামাটির বিলাইছড়ি সীমান্তের গহীন অরণ্যে যেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে । কারণ ওই এলাকা পুরোটাই মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে।

এদিকে বুধবার অপহৃত গাইডের ভাই পাসিং ম্রোকে ফোন করে সশস্ত্র গ্রুপটি অর্ধ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

পাসিং ম্রো বুধবার দুপুর দুইটায়  বলেন, ‘এএলপি কমান্ডার আমাকে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। দাবীকৃত টাকা দিলে তারা অপহৃতদের ছেড়ে দেবে।’

গত ২৮ সেপ্টেম্বর মুন্না ও জুবায়ের ঢাকা থেকে বান্দরবনের রুমায় বেড়াতে আসেন। এসময় তারা স্থানীয় একজন গাইডকে সঙ্গে নেন। শনিবার বিকালে রুমা উপজেলা হয়ে বিলাইছড়ির সেপ্রুপাড়া দিয়ে যাওয়ার সময় তারা অপহরণের শিকার হন। এ খবর প্রকাশের পর  যৌথ বাহিনী তাদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযানে নামে।

পর্যটকদের সন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে  জানিয়েছেন রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম।

পাহাড়ে চলতি সপ্তাহে দুই পর্যটকসহ পাঁচ জন অপহরণের শিকার হন। এদের মধ্যে আলীকদমে অপহৃত দুই ব্যবসায়ীকে মুক্তিপণের বিনিময়ে গত সোমবার ছেড়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

এদিকে, পাহাড়ের গহীনে একের পর এক অপহরণের ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে অনেকে সেখানে যাওয়া স্থগিত করছেন।
জয় বাংলা ট্র্যাকিং এন্ড মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবের একটি অভিযাত্রী দল আগামী ২০ অক্টোবর 'সেভেন সামিট' করার জন্য  বান্দরবনের গহীনে যাওয়ার কথা থাকলেও সেই সফর অনিশ্চিত বলে জানিয়েছেন এই দলের সদস্য বিনয় ভদ্র। তিনি  সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন  "অপহরণের ঘটনায় আমরা  উদ্বিগ্ন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং প্রশাসনের অনুমতি না পেলে নির্ধারিত ট্যুর স্থগিত করা হবে"
 
রুমা থানা সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা জনিত কারণে রুমা উপজেলার পর্যটন এলাকায় প্রবেশের আগে থানায় অবহিত করা বাধ্যতামূলক। তবে, ওই দুই পর্যটক এ ব্যাপারে থানায় অবহিত করেননি। তাই তাদের ব্যাপারে পুলিশের কাছে আগাম কোনও তথ্য ছিলনা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত