১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:৩২
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকার কারণে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫১। এই দলগুলোর মধ্যে বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রক্রিয়ায় রয়েছে মাত্র ২১টি দল; অর্থাৎ এর বাইরে রয়েছে ইসিতে নিবন্ধিত অন্তত ৩০।
জুলাই সনদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের যোগাযোগ, সংলাপ বা মতামত গ্রহণের বাইরেই রয়ে গেছে নিবন্ধিত অন্তত ৩০টি রাজনৈতিক দল।
তবে নিবন্ধিত এই দলগুলোর বাইরেও ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ইস্যুতে আলী রীয়াজের নেতৃত্বে ঐকমত্য কমিশনের কয়েক ধাপের সংলাপে অন্তত ৩৩টি দল ও সমমনা জোট অংশ নিয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, আমজনতার দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জাকের পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টি-বিএসপি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী, ভাসানী জনশক্তি পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ও ১২ দলীয় জোট জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ ও জুলাই সনদ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ২১টি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। এরবাইরে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বাকি ৩০টি দলকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়নি। আওয়ামী লীগকে হিসেবের মধ্যে নিলে এ-সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১।
ফলে নিবন্ধিত হয়েও কোন যুক্তিতে এবং কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব রাজনৈতিক দলকে সংলাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন দলগুলোর নেতারা।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, যে কোনো সনদ তৈরির ক্ষেত্রে যত বেশি অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, ততই জাতির জন্য মঙ্গল, সনদের গ্রহণযোগ্যতা ও টেকসইয়ের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু জুলাই সনদে তো বড় বড় দলকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সেসব বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এ সনদ গ্রহণ করবে না। ফলে রাষ্ট্রীয় বিভাজন প্রকট আকার ধারণ করবে। সনদ হওয়া উচিত ছিল ঐক্যের প্রতীক, তা না হয়ে জুলাই সনদ জাতীয় অনৈক্যের প্রতীক হয়ে গেল।
বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মুহাম্মদ আলী ফারুকী বলেন, এ সনদকে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের কথা বলা হলেও, তা হয়নি। অর্ধেক দলকে তো কমিশনের ডাকাই হয়নি। এমন দলকেও ডাকা হয় যাদের নিবন্ধন-ই নেই, অথচ নিবন্ধিত অর্ধেক দল এ আলোচনার বাইরেই ছিল। তাই বাইরে যতটুকু জানা যায় তাই দেখছি, দর্শক সারি থেকে কিছু বলতেও পারা যাচ্ছে না।
জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি। এর আগেও এ ধরনের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলো করেছিল এরশাদ সরকারের পতনের পর। এর সফলতা নির্ভর করবে কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। যেহেতু সনদ তৈরির বৈঠকে ডাকা হয়নি, সনদে কী আছে জানি না, সুতরাং এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো জানি না। এক কথায় যারা এ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে তারা দেখুক, আমরা তো নেই।
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) সভাপতি সুকৃতি কুমার মণ্ডল বলেন, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা নিবন্ধন পেয়েছি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সংলাপে অনিবন্ধিত দলকে ডাকা হলেও আমাদের ডাকা হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ও ঐকমত্য কমিশনে আমরা দরখাস্ত দিয়েছি। সংবাদ সম্মেলন করেও দাবি জানানো হয়েছে। তবুও আমাদের মতামত নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, যদি সবার অধিকার সমান থাকে তবে ১২ থেকে ১৩টি নিবন্ধিত দলকে ডাকা হলেও আমাদের কেন ডাকা হবে না। পাঁচ-সাত মাস ধরে ঘটা করে সবার মতামত নেওয়া হয়েছে। আমাদেরও কিছু বিষয় ছিল, আমরাও তো এ দেশের নাগরিক। দুঃখজনক হলো, জুলাই সনদ একপেশেভাবে স্বাক্ষর করা হচ্ছে। যেহেতু আমাদের জানানো হয়নি, আমরা তো জোর করে মতামত দিতে পারব না।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মাওলানা এমএ মতিন বলেন, ঐকমত্য কমিশনের কোনো সংলাপে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। আমরা জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় অংশীদার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকারে যারা আছেন তারা জাতিকে আবার বিভক্ত করার জন্য একটা অংশকে নিয়ে ফের তারা যে কাণ্ডগুলো করছেন আমরা তার প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাই। এতগুলো নিবন্ধন রাজনৈতিক দলকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সংস্কারের নামে যেগুলো করছে এবং মতামত নিচ্ছে; এ ব্যাপারে তারা একমত হচ্ছেন, আবার দ্বিমত হচ্ছেন। এ নিয়ে যারা মতামত দিচ্ছেন ও নিচ্ছেন এর দায়ভার তারাই নেবেন।
এ-বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের কারো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত যে দলগুলোকে ডাকা হয়নি, সেগুলো হলো জাতীয় পার্টি - জেপি; বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল); কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ; গণতন্ত্রী পার্টি; বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি; বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি; বিকল্পধারা বাংলাদেশ; জাতীয় পার্টি; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ; বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি; বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন; বাংলাদেশ মুসলিম লীগ; ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি); বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ; বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি; ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ; বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি; বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট; বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল; বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট); বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ; বাংলাদেশ কংগ্রেস; তৃণমূল বিএনপি; ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ; বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম; বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি); বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি; বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)।
আপনার মন্তব্য