২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৫:৩৩
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর নির্বাচন করছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে। বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতায় তিনি দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে, তার দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান সমঝোতায় ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-সদর আংশিক) আসন পেলেও কেবল ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নির্বাচন করতে করেছেন দলবদল।
দুজনই করছেন নির্বাচন, এবং তাদের সমর্থন ও মনোনয়ন দিয়েছে। তবে বিপত্তি বেঁধেছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থিতায়। দুই আসনেই আসছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।
নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় এরিমধ্যে বহিস্কৃত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন। আর রাশেদ খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বহিস্কৃত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় শেষ হলেও হাসান মামুন পটুয়াখালী-৩ আসনে তার মনোনয়ন বহাল রাখেন। তিনি এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিপি নুর সমর্থন পেলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন রকম। তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির একটি বড় অংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এখনো হাসান মামুনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। এর ফলে ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনের ফলাফলে।
জানা গেছে, হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তার নিজস্ব একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। অন্যদিকে ভিপি নুর জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখ হলেও এই আসনে সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি কাজে লাগানোই হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, জনগণের সঙ্গে তার যে অঙ্গীকার ছিল, সে কারণেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। তিনি জানান, জনগণের স্বার্থেই রাজনীতি করেন এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খানকে ‘বহিরাগত প্রার্থী’ আখ্যা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, ‘আমি ছাত্র জীবন থেকেই ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামেও যুক্ত ছিলাম। বিএনপি থেকে কাউকে মনোনয়ন দিলে আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতাম। একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে (রাশেদ খান) ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এই আসনের মানুষ আমাকে চায়, তারা আমার পক্ষে আছে। স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার জন্য আমি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই আছি, থাকব।’
বহিস্কারাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করে শতবার বহিষ্কার হতে রাজি জনগণের স্বার্থে।’
আপনার মন্তব্য