৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০৩
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সংঘর্ষের এ ঘটনায় দুপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপির পক্ষের অভিযোগ বাড়ির নারীরা গোসল করছিলেন। সাতসকালে প্রচারণায় এমন সময় প্রচারে আপত্তি জানালে জামায়াতের উসকানিতে সংঘর্ষ বাধে।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে টবগী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারপত্র বিতরণ ও প্রচারণা করেন। একপর্যায়ে তাঁরা চৌকিদার বাড়ি এলাকায় প্রবেশ করলে সেখানে অবস্থানরত বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে লাঠিসোঁটা, কোদাল ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
সংঘর্ষে টবগী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল হালিম এবং কর্মী মো. ফয়জুল্লাহ, মো. ইমন, মো. শাহে আলম, মো. রায়হান, মো. শামীম, মো. তানজিলসহ ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত আবদুল হালিম ও ফয়জুল্লাহকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনায় বিএনপির অন্তত পাঁচ কর্মী আহত হয়েছেন। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সকালবেলা স্থানীয় কিছু নারীরা পুকুরে গোসল করছিলেন। এ সময় জামায়াতের প্রচার দল একটি বাড়িতে প্রবেশ করলে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা–কর্মীরাই উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষ রূপ নেয় ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বোরহানউদ্দিন থানা–পুলিশ ও নৌবাহিনীর একটি দল পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঠানো হয়েছে এবং তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
দুপুরে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাঁদের নেতা–কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে বিএনপির নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মো. আজম বলেন, জামায়াতের নেতা–কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির সমর্থকদের বাড়ি এসে হুমকি দিয়ে ভোট চাইলে প্রতিবাদ জানানো হয়। সেই প্রতিবাদে জামায়াত নেতারা ভাঙচুর করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য