১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৩৬
কেমুসাস সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭-র জন্য কবি ও গবেষক নৃপেন্দ্রলাল দাশকে মনোনীত করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কর্তৃক আয়োজিত সাহিত্য সম্মেলনে তাঁকে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।
কবি ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ ১৯৪৯ সালের ৬ নভেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২নং ভূনবীর ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম দেবেন্দ্রনাথ দাশ এবং মায়ের নাম লাবণ্য দাশ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ এম এ পাস করা নৃপেন্দ্রলাল দাশের এ পর্যন্ত ৮৮টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। মূলত কবি হলেও সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায়ই রয়েছে তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রম্যাণি-রুচিরা ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে অনীহার অন্ধকারে আমি (১৯৭২); বৈশালীর প্রতি সনেটগুচ্ছ (১৯৮২); দাঁড়াও দুঃখ (১৯৮৩); একফর্মা ইচ্ছাপত্র (১৯৯৮); রব্বানী, আমার নিজস্ব তর্জা (২০০৬); এই নশ্বরতা চাই (২০০৬); Ode to Robbani (২০০৬), ফেসবুকে আমার রুবাইগুলি (২০১২), কবিতা সমগ্র-১ (২০১৩) বীরাঙ্গনা কথা (২০১৭)।
গবেষণা এবং প্রবন্ধ সাহিত্যেও তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণা ও প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, শ্রীভূমি সিলেটে রবীন্দ্রনাথ, সিলেটে নজরুল, বোবা বেহাগ, হাসনরাজা শব্দ নৈশব্দ, ভেঙে যাই তাবৎ ঘরানা, দেখা অদেখা, শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ, গদ্যসমগ্র-১ ইত্যাদি।
তিনটি নিরীক্ষাধর্মী উপন্যাস লিখেছেন তিনি। সেগুলো হচ্ছে, গার্গি, হাসনরাজা : রঙের বারই, হেমন্তবালার রবীন্দ্রনাথ। তাঁর একমাত্র ভ্রমণ কাহিনী বরাকবঙ্গে প্রব্রজ্যা বিপুল প্রশংসিত হয় পাঠক মহলে।
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে ১৯৭৫ সালে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই শিক্ষক নানা সরকারি কলেজে অধ্যাপনা শেষে ঝিনাইদহের কেশবচন্দ্র কলেজ থেকে ২০০৬ সালে প্রফেসর হিসেবে অবসরে যান। সব্যসাচী এই লেখক লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কার। নৃপেন্দ্রলাল দাশের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে এ পর্যন্ত ৩টি সম্মাননা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে লন্ডনভিত্তিক টিভি চ্যানেল ‘আয়নাঘর’ নামে একটি তথ্য চিত্র নির্মাণ করেছে।
আপনার মন্তব্য