১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:১৫
কিলিয়ান এমবাপে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলেছেন, গোলও করেছেন। তবে কালকে ম্যাচ তার জন্যে এই ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতায় রিয়ালের হয়ে ছিল অভিষেক ম্যাচ। কেবল এমবাপেই নয়, এন্ড্রিকের জন্যে ছিল জীবনের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ। এই দুই অভিষিক্ত এবং ডিফেন্ডার অ্যান্তেনিও রুদিগারের গোলে ম্যাচ জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ।
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে মঙ্গলবার রাতে ৩-১ গোলে জিতেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচের ফল যাই বলুক না কেন, জার্মান ক্লাব ভিএফবি স্টুটগার্ট লড়াই করল সমান তালে। তবে ইউরোপ সেরার মঞ্চে আরও একবার নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়ে জয় দিয়েই শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল কার্লো আনচেলত্তির দল।
ম্যাচজুড়ে অসংখ্য সেভ করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
৫৪ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৭টি শট নেয় স্টুটগার্ট, এর সাতটি ছিল লক্ষ্যে। জার্মান ক্লাবটির বিপরীতে রিয়ালের ২০ শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে।
ঘরের মাঠে গতিময় শুরু করে রিয়াল। তবে তাদের চমকে দিয়ে দ্রুতই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্টুটগার্ট। প্রথম ১৮ মিনিটে গোলের জন্য নেয় পাঁচটি শট!
৩৩তম মিনিটে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ভিএআর মনিটরে ট্যাকলের দৃশ্য দেখে বাতিল করেন সিদ্ধান্ত। রুদিগার নয়, আগে বলেই লেগেছিল স্টুটগার্ট ডিফেন্ডারের পা। ৪০তম মিনিটে ডেনিস উন্দাভের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান কোর্তোয়া।
প্রথমার্ধে নিজেদের খুঁজে ফেরা রিয়াল এগিয়ে যায় বিরতির পরপরই। নিজেদের অর্ধ থেকে আসা বল ধরে পায়ের কারিকুরিতে এগিয়ে যান রদ্রিগো। আগুয়ান গোলরক্ষককে এড়িয়ে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড খুঁজে নেন এমবাপেকে। ফাঁকা জালে অনায়াসে বল পাঠান ফরাসি তারকা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি রিয়ালের হয়ে তার প্রথম গোল। ইউরোপ সেরার মঞ্চে সব মিলিয়ে ৪৯তম। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে পেছনে ফেলে শীর্ষ ১০ গোলদাতার তালিকায় ঢুকলেন তিনি। বসলেন রিয়াল কিংবদন্তি আলফ্রেদো দি স্তেফানোর পাশে।
৫৯তম মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট ব্যর্থ হয় ক্রসবারে লেগে। দুই মিনিট পর লেওয়েলিংয়ের শট ঠেকিয়ে ব্যবধান ধরে রাখেন কোর্তোয়া।
৬৭তম মিনিটে এদের মিলিতাওয়ের পায়ে লেগে পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায় লেওয়েলিংয়ের শট। সেই কর্নার থেকেই পরের মিনিটে হেডে জাল খুঁজে নেন উন্দাভ।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দারুণ জমে ওঠা ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে ফের এগিয়ে যায় রিয়াল। লুকা মদ্রিচের কর্নারে সবার উঁচুতে লাফিয়ে বল জালে পাঠান রুদিগার।
পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের শেষটায় জালের দেখা পান একটু আগে বদলি নামা এন্ড্রিক। প্রতি-আক্রমণে বল পেয়ে দারুণ গতিতে অনেকটা এগিয়ে দূরপাল্লার শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। ঝাঁপিয়ে হাত ছোঁয়ালেও জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি নুবেল।
সতীর্থদের নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকে গোল পাওয়ার আনন্দে মাতেন ব্রাজিলের নতুন ফুটবল সেনসেশন এন্ড্রিক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরার এখন তিনিই (১৮ বছর ৫৮ দিন)। আগের রেকর্ডটি ছিল রাউল গনসালেসের (১৮ বছর ১১৩ দিন), ১৯৯৫ সালে হাঙ্গেরির ক্লাব ফেরেন্সিভারোসের বিপক্ষে ৬-১ ব্যবধানে জয়ের ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
আপনার মন্তব্য