০৯ জুন, ২০২৫ ১২:১৬
সেমিফাইনালে স্বাগতিক জার্মানির বিপক্ষে জয়সূচক গোল, ফাইনালের স্পেনের বিপক্ষে তার গোলেই ম্যাচ সমতায় এবং সেখান থেকেই টাইব্রেকারের মাধ্যমে শিরোপা জয়; এমন এমন মহাকাব্য লেখা হলো কাল মিউনিখে। উয়েফা নেশন্স লিগ আরও একবার জিতল পর্তুগাল। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জিতলেন আরও একটা মেজর শিরোপা।
পুরোনো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে ২–২ গোলে ড্রয়ের পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও সমতা ভাঙতে পারেনি কেউ। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৫–৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পর্তুগাল—এবং হয়ে ওঠে নেশনস লিগের ইতিহাসে একমাত্র দল, যারা দুইবার এই শিরোপা ঘরে তুলল।
২১তম মিনিটেই গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মার্তিন জুবিমেন্দি। তবে পাঁচ মিনিট পরই নুনো মেন্ডেজের গোলে সমতায় ফেরে পর্তুগাল। সেই গোলের পেছনে ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দক্ষ অবদান।
বিরতির ঠিক আগে স্পেন আবার এগিয়ে যায় মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে, যেটি এসেছিল পেদ্রির অসাধারণ এক পাস থেকে।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প রচনা করেন সিআরসেভেন। ৬১ মিনিটে নুনো মেন্ডেজের দারুণ এক ক্রস থেকে রোনালদো গোল করেন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৩৮তম গোলটি।
নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়েও জয় না আসায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই অসাধারণ ধৈর্য আর মানসিক দৃঢ়তার ছাপ রাখে পর্তুগাল। পাঁচটি পেনাল্টির প্রতিটিতেই জালে বল পাঠান গনসালো রামোস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, নুনো মেন্ডেজ ও রুবেন নেভেস। স্পেনের পক্ষে মেরিনো, বায়েনা ও ইসকো গোল করলেও চতুর্থ শটে মোরাতার প্রচেষ্টা থামিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা। এর পর নেভেসের গোলেই উৎসব শুরু হয় পর্তুগাল শিবিরে।
ম্যাচের আগেই এই লড়াইকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছিল ‘পুরোনো বনাম নতুন’ হিসেবে। ৪০ বছর বয়সী রোনালদো যেখানে তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে, সেখানে ইয়ামাল প্রতিভার শুরুতেই। কিন্তু বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার কাছে হার মানে উজ্জ্বল সম্ভাবনাও। রোনালদো সুযোগ পেয়ে কাজে লাগিয়েছেন, ইয়ামাল ছিলেন ছায়াময়।
৮৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও তার অবদানেই ম্যাচে সমতা ফেরে। আর শেষ পর্যন্ত ট্রফিটা ওঠে সেই রোনালদোর হাতেই—যার ক্যারিয়ারে এটা আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল অর্জন।
২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নেসন্স লিগ জিতেছিল পর্তুগাল।
আপনার মন্তব্য