২৪ মে, ২০২৬ ১৯:৩৬
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কইন্নাজঙ্গল এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
রোববার (২৪ মে) ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার ১২ নম্বর সদর ইউনিয়নের লুনী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এতে আহতরা হলেন— তোফায়েল (২৩), জালাল উদ্দীন (৩৪), লিমা বেগম (২৫), আলকুমা বেগম (৩৫), আল আমিন (২২), রুহুল আমিন (১৯), উস্তার মিয়া (৩৮), ফখরুল ইসলাম (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৫২), মুহিবুর রহমান (৫৫), সিরাজ উদ্দিন, মাসুক আহমদ (৪০), লোকমান (৩৫) ও আলিফান বিবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কইন্নাজঙ্গল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কামরুল ও খয়রুল বাহিনীর নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছিল। সংবাদকর্মী লোকমান আহমদের ভাতিজা তোফায়েল আগে ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকলেও প্রায় ২০ দিন আগে আলাদা হয়ে নিজেই বালুর ব্যবসা শুরু করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিরোধের জেরে রোববার ভোরে বালু উত্তোলনস্থলের পাশের অস্থায়ী ঘরে (ওড়া) ঘুমন্ত অবস্থায় তোফায়েল ও লোকমানের ভাই উস্তার আলীর ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উস্তার আলীর একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে হামলার শিকাররা চিৎকার করে বাড়িতে গেলে প্রতিপক্ষের ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল লোকমান আহমদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘরে ভাঙচুর ও নারী-পুরুষদের মারধর করা হয়। হামলায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
লোকমান আহমদ বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে কামরুল ও খয়রুলের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমার ভাই ও ভাতিজার ওপর প্রথমে হামলা করা হয়। পরে তারা বাড়িতে এসে ব্যাপক ভাঙচুর ও মারধর করে। আমাদের পরিবারের ১৪ জন আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানা-এ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কামরুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, “বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আপনার মন্তব্য