১৯ জুন, ২০২৬ ০৯:৫৩
জোনাথন ডেভিডের চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিকে এশিয়ার দেশ কাতারকে বিধ্বস্ত করেছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডা।
ভ্যাঙ্কুভারে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচটিতে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে কানাডা।
বিজয়ী দলের হয়ে হ্যাটট্রিক করা ডেভিড ছাড়াও অন্য দুটি গোল করেছেন কাইল ল্যারিন ও ন্যাথান সালিবা।
বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে তৃতীয় আসরে খেলতে নেমে এটিই কানাডার প্রথম জয়ের স্বাদ। এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ আসরে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলে সবকটিতেই হেরেছিল তারা।
গ্রুপের দুই রাউন্ড শেষে একটি করে জয় ও ড্রয়ে কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের পয়েন্ট এখন সমান ৪। তবে গোল ব্যবধানে বেশ এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে স্বাগতিক কানাডা। অন্যদিকে সমান ১ পয়েন্ট করে নিয়ে টেবিলের তলানিতে রয়েছে বসনিয়া ও কাতার।
পুরো ম্যাচজুড়ে অবিশ্বাস্যভাবে নিজেদের মেলে ধরা কানাডিয়ানদের সামনে কখনোই কোনো চ্যালেঞ্জ দাঁড় করাতে পারেনি কাতার। ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশ্যে মোট ৩৩টি শট নেয় কানাডা, যার ১০টিই ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে কাতারের নেওয়া দুটি শটের একটিও গোলপোস্টে চুমু খেতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে শুরুতে গোল হজম করা কানাডা এবার যেন ঘরের মাঠে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য বজায় রেখে ১৬তম মিনিটে গ্যালারি ভরা সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসায় স্বাগতিক দল। জোনাথন ডেভিডের জোরাল শট সোজাসুজি থাকার পরও কাতার গোলরক্ষক বল হাতে রাখতে না পারলে, সামনে থাকা ল্যারিন দ্রুত টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন। এরপর ২৯তম মিনিটে বিউক্যানানের জোরাল শট ডি-বক্সের মুখে ডেভিডের শরীরে বাধা পেলেও দুর্দান্ত এক ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইউভেন্তুসের এই ফরোয়ার্ড। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠের খেলায় চরম ধাক্কা খায় কাতার। এক পাল্টা আক্রমণে বিউক্যানানকে পেছন থেকে হোমাম এল আমিন ফেলে দিলে প্রথমে পেনাল্টি ও হলুদ কার্ডের বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ফাউলটি ডি-বক্সের বাইরে হওয়ায় ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টি বাতিল হলেও হলুদ কার্ড বদলে এল আমিনকে সরাসরি লাল কার্ড বা বহিষ্কারের নির্দেশ দেন রেফারি। বিরতির ঠিক আগে কাইল ল্যারিনের জোরাল হেড গোলরক্ষক কোনোমতে ঠেকালেও ফিরতি বলে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডেভিড।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩তম মিনিটে মাঝমাঠে পেছন থেকে আসিম মাদিবোর কড়া ট্যাকলে পা ভেঙে যায় কানাডার ইসমায়েল কোনের। স্ট্রেচারে করে এই মিডফিল্ডার মাঠ ছাড়ার পর রেফারি ভিএআর দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। কোনের বদলি নামার মাত্র সাত মিনিটের মাথায় চমৎকার এক সরাসরি ফ্রি কিকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন ন্যাথান সালিবা। এবারের বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে এটিই প্রথম গোল। এর ১০ মিনিট পর জেকব শাফলবার্গের শট গোলমুখে আটকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মোহামেদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্যালিবার শট ধরে নিচু শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ছয় দশকে প্রথম কোনো স্বাগতিক ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করলেন ডেভিড। এর আগে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইংলিশ তারকা জিওফ হার্স্ট। এই ম্যাচের পর ৭৯ ম্যাচে ৪২ গোল নিয়ে কানাডার ইতিহাসে নিজের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেলেন ডেভিড।
আগামী বুধবার গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কানাডা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি ড্র করতে পারলেই গ্রুপ সেরা হয়ে পরের রাউন্ডে যাবে স্বাগতিকরা। একই সময়ে অন্য ম্যাচে মাঠে নামবে বসনিয়া ও কাতার।
আপনার মন্তব্য