স্পোর্টস ডেস্ক

০৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪২

মেসি ও আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই আমাদের হারানো হয়েছে: মিসর কোচ

২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার—এমন পরাজয় হজম করা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন। তার ওপর যদি থাকে বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত, তবে এটা সত্যি কঠিন। মিসর কোচ হোসাম হাসানের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন নাটকীয় হারের পেছনে মাঠের খেলার চেয়ে রেফারি এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ‘মাঠের বাইরের’ ভূমিকাকেই পরোক্ষে দায়ী করছেন তিনি।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের এই রুদ্ধশ্বাস শেষ ষোলোর ম্যাচে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি এবং এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচ শেষে মিসর কোচের গুরুতর অভিযোগ—আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতেই রেফারি তাঁদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন।

হোসাম হাসানের মূল ক্ষোভ ম্যাচের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি নিয়ে। তাঁর দাবি, ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে মিসরের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার ফাউল করলেও সেটি ভিএআরে দেখাই হয়নি।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হতাশ মিসর কোচ বলেন, "বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে আমরা ভালো খেলেছি। প্রায় সব দিকেই আমরা এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু মাঠের ভেতরের কিছু সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু বিষয় ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।"

আর্জেন্টিনা সব দিক থেকেই অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছে উল্লেখ করে হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক। ফুটবলে কখনো কখনো খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের চেয়ে বাইরের বিষয় বেশি প্রভাব ফেলে।"

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচটিতে প্রধান রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। ফরাসি এই রেফারিকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই মেনে নিতে পারেনি মিসর। ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় বৈরিতার ইতিহাস টেনে হাসান বলেন, "ফ্রান্স-আর্জেন্টিনার অতীতের কারণে আমরা এই রেফারি নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি, শেষ পর্যন্ত ভুগতে হলো আমাদেরই।"

সংবাদ সম্মেলনে মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া একটি ফাউলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন কোচ। তিনি বলেন, "আমরা মাঠে ন্যূনতম সম্মান বা ফেয়ার প্লে কিছুই পাইনি। মোহাম্মদ সালাহর ওপর হওয়া ফাউলের ঘটনায় সম্ভাব্য পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, এমনকি ভিএআরে চেকও করা হয়নি। আমাদের দ্বিতীয় গোলটিও অদ্ভুতভাবে বাতিল করা হলো। অন্যদিকে ম্যাক আলিস্টার যে আমাদের খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরলেন, তা সবাই দেখলেও ভিএআর অন্ধ সেজে রইল।"

ক্ষুব্ধ মিসর কোচ আরও যোগ করেন, "বাস্তব জীবন অন্যায্য হতে পারে, কিন্তু খেলাধুলায়ও কেন ন্যায্যতা থাকবে না? এই ম্যাচের ফল এবং যেভাবে সবকিছু ঘটেছে, তাতে আমি কোনোভাবেই সন্তুষ্ট নই। একে ‘দুর্ভাগ্য’ বললে ভুল হবে, বাস্তবে আমাদের সঙ্গে স্পষ্ট অন্যায় করা হয়েছে।"

খেলা শেষে মাঠের ভেতরেই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায় হোসাম হাসানকে। সে প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমি রেফারিকে সরাসরি গিয়ে বলেছি, ‘এটা অন্যায়’। আমি বলেছি, হয়তো তাঁর লুকানোর কিছু আছে। কেউ যদি কিছু লুকানোর চেষ্টা করে, অনেক সময় সেটি আর লুকিয়ে রাখা যায় না।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত