২৮ জুন, ২০২৬ ২১:২৯
ছবি: সংগৃহীত ।
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি বলেছেন, “বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে উল্টো পথে হাঁটছে। এই সরকারের অনেক সফলতা থাকতে পারে, কিন্তু সরকার যদি ভুল পথে চলে, তাহলে সেই সফলতাও টেকসই হবে না।”
তিনি বলেন, “আপনি যদি রেলগাড়ি বেলাইনে বা ভুল পথে চালাতে শুরু করেন, তাহলে কি তা চলবে? চলবে না। কারণ শুরুটাই ভুল পথে হয়েছে। এই সরকারের প্রথম পথ ছিল সংস্কারের পথ; কিন্তু সরকার সেই পথ থেকে সরে অন্য পথে গেছে। ফলে সরকার যা-ই করবে, তা ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে।”
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বড়লেখা উপজেলা শাখার আয়োজনে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি আরও বলেন, “সরকার যদি আবার সংস্কারের পক্ষে ফিরে আসে, আমরা তা স্বাগত জানাব। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন হবেই—এ কথা আমি বড়লেখা থেকে বলে গেলাম।”
তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, “বিএনপি যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না করে, তাহলে বিএনপি সরকারেরও পতন হবে। বিষয়টি তারেক রহমানকে বুঝতে হবে।”
এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমরা ১১ দল এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিকভাবে এ প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। গত নির্বাচনে ৭৫ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো সরকার যেতে পারে না। আমরা ১১ দল রাজপথে নেমেছি। সরকারকে যে ভূতে পেয়েছে, এই ভূত তাড়ানোর জন্য প্রত্যেক বিভাগে আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ আগামীতে আপনাদের সিলেট বিভাগে একটি মহাসমাবেশ হবে। আপনারা সবাই আসবেন।”
শেষে তিনি বলেন, “সালাউদ্দিন ভাই যতই লাফালাফি করুন, তাতে লাভ হবে না। বাংলাদেশে কেবল সংশোধন নয়, প্রকৃত সংস্কারই বাস্তবায়িত হবে।”
তিনি আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে এই সরকার পতনের দিকে যাব, ইনশাআল্লাহ। আমরা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। আমাদের যে ভাইয়ের হাত চলে গেছে, ওই হাতের সঙ্গে আমরা বেইমানি করতে পারব না। এই ভাইয়েরা আমাদের একটি গুরুদায়িত্ব দিয়ে গেছেন। আমি সাঈদ মারা যাচ্ছি, তুমি পৃথিবীতে যতদিন জীবিত থাকবে, তুমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সংস্কার নিয়ে আসবে। যদি আপনাদের মধ্যে আবু সাঈদের রক্ত থাকে, তাহলে বাংলাদেশে আমরা সংস্কার বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।
নাসির উদ্দিন বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছিল, শেখ হাসিনার পতন হলে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে পাঁচ লাখ লোক মারা যাবে। আমরা কোনো প্রতিশোধে যাইনি। আমরা বলেছি, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ আছে। আমরা বিচারে বিশ্বাসী। আপনি বিনা বিচারে ফাঁসি দিতে পারেন। কিন্তু আমরা বিচারের পক্ষে। ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে। শেখ হাসিনার ফাঁসি হয়েছে। আমরা এখন অপেক্ষায় আছি, কবে শেখ হাসিনাকে দেশে এনে জনগণের বিজয়ের মধ্য দিয়ে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদদের বদলা নেওয়া হবে। এবং আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের সামনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ইঙ্গিত করে বলেন, আজকে আমাদের একটি প্রোগ্রাম ছিল। জুলাইয়ের আমাদের কিছু বন্ধুরা রাস্তায় প্রতিবাদ করেছে। আমরা তাঁদের উদ্দেশে বলব, আমাদের কাজ দেখে শিখুন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবেও প্রোগ্রাম করতে জানি। তোমাদের ইলিয়াস আলীকে যে কারণে গুম করা হয়েছে, সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে দাঁড়ানোর জন্য। আমরা ইলিয়াস আলীর পথ ধরে চলি। তোমাদের নেতা বলেছিল, ‘উই রিভোল্ট’। আমরাও ভারতের বিরুদ্ধে বলি, ‘উই রিভোল্ট’। এ জন্য রাস্তায় চিৎকার-চেঁচামেচি না করে আল্লাহর ওয়াস্তে সীমান্তে চলে যান। সীমান্তে পাহারা দিন। তখন বলতে পারবেন, জিয়ার সৈনিক। নাহলে রাস্তার সৈনিক হয়ে যাবেন।
বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
সভায় বড়লেখা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ, বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ফয়ছল আহমদ, বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির এমাদুল ইসলাম, বড়লেখা উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাইমিন সালেহ, খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম আতিকুর রহমান, পৌর জামায়াতের সাবেক নেতা প্রবাসী খিজির আহমদ, বড়লেখা সদর ইউপি জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি রবিউল ইসলাম সুহেল, এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য