সিলেটটুডে স্পোর্টস ডেস্ক

১৯ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:৩১

এবার টার্গেট সিরিজ জয়

৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ২য় ম্যাচ আগামীকাল রবিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এরই মধ্যে ১ম ওয়ানডেতে ১৬ বছর পর পাকিস্তানকে হারিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়েছে টাইগাররা। তাই ১ ম্যাচ হাতে রেখেই এখন সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ মাশরাফিদের সামনে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২য় ওয়ানডে জিতেই সিরিজ নিষ্পত্তি করতে চায় তারা। ২য় ম্যাচের আগে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলাটি শুরু হবে বেলা আড়াইটায়।

১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ শ্রীলংকার মোরাতুয়া স্টেডিয়ামে ১ম ওয়ানডে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিলো পাকিস্তান। এরপর পাকিস্তানের সাথে আরও ৩১বার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। এই ৩১ বারের লড়াইয়ে মাত্র ১টি জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারিয়ে ১ম জয়ের স্বাদ নেয় তারা।

আর ওই জয়টির সংখ্যাও যেন পরিবর্তন হচ্ছিলো না। ২য় জয়ের স্বাদ কোনভাবেই ধরা দিচ্ছিলো না বাংলাদেশের হাতে। অনেক ম্যাচে জয়ের প্রবল সম্ভাবনা জাগিয়েও হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ। তাই বলাও শুরু হয়েছিলো- ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে হারের পছন্দ বাংলাদেশকে’।

অবশেষে হার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ দলের উপর থেকে। দেশের মাটিতেই ১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ২য় জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। জয়ের ধরনটাও ছিলো ঝাঁঝালো। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ৭৯ রানে জিতে বাংলাদেশ। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ের সুর্বন সুযোগ টাইগারদের সামনে।

২য় ওয়ানডে জিতে গেলেই ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিবে বাংলাদেশ। আর এ সুবর্ণ সুযোগটা যেভাবেই হোক কাজে লাগাতে চাইছেন টাইগারদের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা, ‘আমাদের সামনে ১ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ের দারুণ একটি সুযোগ এসেছে। ১ম ম্যাচটি পারফেক্ট ছিলো আমাদের জন্য। আমার কাছে মনে হয়, কোথাও বড় কোনো ভুল ছিলো না। তবে বোলিংটা আরও একটু ভালো হতে পারতো। আমার মনে হয়, যে উইকেটে খেলা হয়েছে, সেখানে দু’দলই ৩০০-এর উপরে করতে পারতো। তারপরও আমার মনে হয় ম্যাচটি পারফেক্ট। তবে এ রকম প্রতি ম্যাচেই খেলা সম্ভব না। এ রকম খেলতে পারলে যে কোনো দলের বিপক্ষে যে কোনো সময় জেতা সম্ভব; জেতা সম্ভব মানে জেতাই যায়। আশা করছি, ইনশাল্লাহ এ ম্যাচে যদি আমরা আগেরটির মতো ভুল কম করে খেলতে পারি, তবে জেতার সুযোগ থাকবে।

তাই ২য় ম্যাচেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ দল হিসেবে পাকিস্তান অনেক বেশি শক্তিশালী বলে জানান মাশরাফি, ‘এ পাকিস্তান দলকে আমার কাছে সাধারণ মানের মনে হয়নি; আমরা জিতেছি বলে নয়। ওদের যে বোলিং লাইন, বিশ্বকাপেও এটা ছিলো। আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপের চেয়ে এ বোলিং লাইন বেশি ভালো। ব্যাটিংয়ে মিসবাহ বা আহেমদ শেহজাদ নাই, এ ছাড়া আফ্রিদি নেই; আফ্রিদি অনেকবার আমাদের সাথে গেইম চেঞ্জ করে দিয়েছে, এটা ঠিক। আমার মনে হয় একটা টিম যখন চেঞ্জ হয়, তখন সিনিয়রদেরতো অবসর নিতেই হবে। আফ্রিদি বা মিসবাহতো এক সময় অবসর নিতোই। এ কারণে ওদের দলে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় আছে। নতুন খেলোয়াড় অবশ্য আমাদের দলেও আছে। একটা টিম গুছিয়ে নিতে কিছুদিন সময় তো লাগেই। আমার মনে হয় না ওরা শক্তির দিক থেকে কোনো অংশে কম আছে।’

১ম ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরমেন্সে মুগ্ধ ক্রিকেট ভক্তরা। তাই অনেকে ভেবেই নিয়েছেন সিরিজ জিতে যাবে বাংলাদেশ। তবে এমন ভাবনার সাথে একমত নন মাশরাফি। তিন বলেন, আসলে একটা জিনিস হয়ে গেছে যে, আমরা যখন দেশে খেলি এবং ১ম ম্যাচ জিতে যাই, তখনই হোয়াইটওয়াশ নিয়ে কথা উঠে। এগুলো আমার কাছে মনে হয় অতিরিক্ত চাপ। আমরা কোনো সিরি খেলতে নামলে প্রত্যেকটি ম্যাচই জয়ের চেষ্টা করি। এ মুহূর্তে আমাদের জন্য পরের ম্যাচটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় আপনারাও এই কথা আশা করছিলেন! এটিই সত্যি কথা; পরের ম্যাচটি আমরা জিততে চাই। এটা জিতলেই আমরা সিরিজ জিতে যাবো। তারপরের ম্যাচেও নিশ্চয় আমরা হারের জন্য নামবো না। আপাতত পরের ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চাই।

বাংলাদেশের মত ২য় ম্যাচ নিয়ে ভাবনাটা পাকিস্তানেরও অনেক বেশি। ২য় ওয়ানডের আগে অনুশীলন বা কোন সংবাদ সম্মেলন করেনি পাকিস্তান। তবে এটি বলা যায়, সিরিজে সমতা ফেরাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে সফরকারীরা। পাকিস্তানের সেই চেষ্টা বিফল করে আবারো পুরো বাংলাদেশকে জয়ের আনন্দ ভাসিয়ে দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত মাশরাফিবাহিনী।

বাংলাদেশ দল
মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, আবুল হাসান, আরাফাত সানি, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), নাসির হোসেন, রনি তালুকদার, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ।

পাকিস্তান দল
আজহার আলী (অধিনায়ক), আসাদ শফিক, উমর গুল, ফাওয়াদ আলম, হারিস সোহেল, জুনায়েদ খান, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, রাহাত আলি, সাঈদ আজমল, সামি আলম, সরফরাজ আহমেদ, ওয়াহাব রিয়াজ ও জুলফিকার বাবর।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত