১৯ এপ্রিল, ২০১৫ ২২:২২
টানা চার হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন আগে, তারপর চার বার আঙুল গোণে গোণে দেখিয়েছিলেন তা। এবার করলেন টানা দুই সেঞ্চুরি, উল্লাসের ভঙ্গিমায় এমন কিছু দেখাননি তিনি কিন্তু চিনিয়ে দিয়েছেন জাত। ব্যাট হাতে দিলেন অনেক সমালোচনার জবাব। তিনি তামিম ইকবাল, ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল।
আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে আউট হয়েছিলেন কিন্তু এবার আউট হননি তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছেন। সাকিব যখন জয়সূচক রান নিলেন অপরপ্রান্তে তামিম ইকবাল অপরাজিত ছিলেন ১১৬ রানে। এ অপরাজিত থাকা পরের ম্যাচে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার ইঙ্গিতও!
আগের ম্যাচে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মুশফিক কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচ সেরা হতে আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না তামিম ইকবালের। স্বভাবত ম্যাচ সেরা তিনি। বাংলাদেশেরও নিশ্চিত হলো সিরিজ জয়, পরের ম্যাচ কেবল আনুষ্ঠানিকতার সেখানে বাংলাদেশ মাঠে নামবে হোয়াইটওয়াশ করতে।
দলীয় ২২ রানে সৌম্য সরকার বিদায় নিলে ক্রিজে আসেন মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। সাঈদ আজমলের বলে বোল্ড হয়ে মাহমুদুল্লাহও ফিরে যান। তবে এখনো অবিচল তামিম। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পাকিস্তানি বোলাররা কোনো সুযোগই করতে পারছে না। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক করেন ৬৫ রান।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ছুড়ে দেওয়া ২৪০ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামে আগের ম্যাচে শতক হাঁকানো টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ওপেনিংয়ে নিজেকে প্রমানের অপেক্ষায় থাকা সৌম্য সরকার। তবে, ইনিংসের তৃতীয় ওভারে জুনায়েদ খানের বলে পরপর তিনটি চার মারা সৌম্য পঞ্চম বলে উইকেটের পিছনে সরফরাজের তালুবন্দি হন। আউট হওয়ার আগে তিনি ১১ বলে ১৭ রান (৪টি চার) করেন।
এর আগে ইনিংসের শুরুতে পাকিস্তানের টপঅর্ডার ভেঙে চুরমার করে দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে সফরকারীরা ৬ উইকেটে ২৩৯ রান সংগ্রহ করে। শেষ ৫ ওভারে ৪৯ রান তোলেন সাদ-রিয়াজ জুটি। এর আগে দলীয় ৭৭ রানের মধ্যে পাকিস্তানের পাঁচ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।
টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া পাকিস্তানের হয়ে তরুণ উঠতি তারকা সাদ নাসিম ইনিংস ও ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৭৭ রান (৯৬ বলে) করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ৬টি চারের পাশাপাশি ছিল একটি ছয়। শেষ দিকে নেমে ওয়াহাব রিয়াজ অপরাজিত ৫১ রানের একটি ইনিংস খেলেন। ৪০ বলে রিয়াজ ৫টি চারের পাশাপাশি দুটি ছক্কা হাঁকান। এ দু’জন মিলে ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন।
এছাড়া পাক দলপতি আজহার আলি ওপেনিংয়ে নেমে ৩৬ রান করেন। আর চার নম্বরে নামা হারিস সোহেল করেন ৪৪ রান।
টাইগারদের হয়ে সাকিব দুটি আর মাশরাফি, সানি, রুবেল, নাসির একটি করে উইকেট তুলে নেন।
আপনার মন্তব্য