১৯ এপ্রিল, ২০১৫ ২৩:৪৭
বিশ্বকাপ শেষে তামিম ইকবালের আকুতি ছিল সমালোচকদের প্রতি- তারা যেন পরিবার নিয়ে কিছু না বলে। সমালোচকদের প্রতি এই আকুতির সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে ভেতরে ফুঁসছিলেন তিনি কিন্তু কেউ জানত না এই বিনীত আকুতির মধ্যে ছিল নিজেকে বদলে দেওয়ার অপরিমেয় শপথ, যার প্রমাণ চলমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ।
বদলে যাওয়া তামিম ইকবাল যেন বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের এক সাইনবোর্ড। বল সিলেকশন, রানিং বিটুইন দ্য উইকেট, ক্রিকেটীয় ঢং-সবকিছুতেই তামিমের মাঝে বদলের ছাপ স্পষ্ট। কব্জির জোরটা যেন হয়েছে দ্বিগুণ। কব্জির মোচড়ে এখন বল সরাসরি সীমানাছাড়া। আহ এমন ব্যাটিং কত দিন পর তামিমের কাছ থেকে।
পপিং ক্রিজে দাঁড়িয়ে ব্যাকফুটে মার, ডাউন দ্যা উইকেটে এসে কখনও বা ব্যাকফুট আবার কখনও বা ফ্রন্টফুট এমন ব্যাটিংশৈলি দেখাটাই চোখের জন্যে স্বস্তির। আর ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরি, অসাধারণ মাত্র একটা শব্দ ব্যবহার করলে হয়ত কৃপণতাই করা হয়ে যায়!
প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির পর আজ (রোববার) দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও করেছেন সেঞ্চুরি। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির মহাত্ম্যের পাশাপাশি তার ক্রিকেটীয় শটের মাহাত্ম্য কম নয়। বোলারদের শাসন করে মাঠের চারপাশে ছড়ি ঘুঁরিয়েছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সতীর্থ মুশফিকুর রহিমের ঝড়ো ইনিংসের কাছে তামিমের ইনিংসটি ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে দলকে সিরিজ জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার ঠিকই অর্জন করে নিলেন বাঁহাতি বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান তামিম।
ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালাতে থাকেন তিনি। সাঈদ আজমল, ফাস্ট বোলার ওয়াহাব রিয়াজ ও রাহাত আলিকে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ৩১ বলেই অর্ধশতক তুলে নেন তামিম।
অর্ধশতকেই থেমে না গিয়ে দলের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এক/দুই রান সংগ্রহ করে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি গড়ে তোলেন। আর মাঝে মাঝেই দৃষ্টিনন্দন এক একটি শটে দলের রানের চাকা সচল রেখে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ শতক।
১১৫ বলে ১১৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি তামিম সাজান ১৭টি চার ও একটি ছক্কায়। ফলে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হওয়ার জন্যে কোন প্রতিদ্বন্দিই ছিল না তাঁর। টানা দুই সেঞ্চুরির সুবাদে সিরিজ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। সিরিজে তাঁর রান ২৪৮ রান।
আপনার মন্তব্য