নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ ২২:৪৫

শেষটা রাঙাতে চায় বাংলাদেশ

সব ভালো যার শেষ ভালো তার। অনেকেই বলে থাকেন এমন। তবে শেষ ভালো হলেই যে সব ভালো হয়ে যায় না, তা এখন বাংলাদেশ দলের চাইতে ভালো করে আর কে বুঝবে! তবু শেষটা ভালো করতে চায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার সাথে দুঃস্বপ্নের এক সিরিজের শেষ প্রান্তে বাংলাদেশ দলের চাওয়া তাই রবীন্দ্রনাথের গানের মতো- ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাবার আগে’।

শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসে মাহমুদুল্লাহ গান-টান গাইলেন না বটে। তবে কথা ঘুরে ফিরে সেই একই থাকলো। শেষটা রাঙাতে চান তিনি।

দুপুরে সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মাহমুদুল্লাহ। বলেন, টেস্ট সিরিজ ও ওয়ানডে সিরিজে আমরা আশাবাদী ছিলাম, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাইনি। আর টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা ভালো পারফর্ম করেছে, কিন্তু বোলাররা হয়তো ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি। কিন্তু এখনো একটা ম্যাচ আছে, আমরা সেটার জন্য খেলব। এই ভেবে অনুপ্রাণিত হওয়ার চেষ্টা করছি যেন আমরা সিরিজটা জিততে না পারি, অন্তত ড্র করতে পারি। এটাই আমাদের লক্ষ্য। যেহেতু প্রত্যেকটা ম্যাচই আমরা খেলেছি জেতার জন্য। চেষ্টা থাকবে এটাই, যেন আমরা ভালো একটা রেজাল্ট করতে পারি।

তবে টানা খারাপ খবরের মধ্যে কাল একটা ভালো খবর দিলেন মাহমুদুল্লাহ। ইনজুরি কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। আজকের ম্যাচে সৌম্যর সঙ্গী হয়ে তাঁর ওপেনিংয়ে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন দলনেতা।

যুদ্ধে প্রতিপক্ষের শক্তি আর দুর্বলতার খুঁটিনাটি তথ্য জানতে গুপ্তচর নিয়োগের বিষয়টি এখন আর গোপন কিছু নয়। সকলেই করে এমন। ক্রিকেটও তো এখন একধরণের যুদ্ধ। তবে এই যুদ্ধে রাবণরাজ্যের সুবিধা এই, বাংলাদেশের শক্তি আর দুর্বলতা সম্পর্কে জানতে তাদের কোনো গুপ্তচরের দরকার নেই। হাথরুসিংহ আছেন না ? প্রায় সাড়ে তিনবছর বাংলাদেশের কোচ থাকায় এই দলের সবকিছুই তার নখদর্পণে।

কাল হাথুরুও স্বীকার করলেন এটি। লঙ্কান কোচ হিসেবে হিসেবে প্রথম সফরেই সাফল্য পেতে বাংলাদেশ-অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে বলে জানালেন তিনি। বাংলাদেশ নিয়ে জানাশোনা কাজে লেগেছে কিনা এমন প্রশ্নে কাল টাইগারদের এই সাবেক গুরু বলেন, ‘হ্যাঁ, তা অনেকটা কাজে লেগেছে। কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে আমাদের কিছু কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল। আমরা জানতাম চাপে পড়লে তারা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়।’

তবে সাবেক শিষ্যরা চাপে দ্রুত ভেঙ্গে যাওয়ায় হতাশ হাথুরু। হাথরুবিহীন বাংলাদেশ দলের প্রথম পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রিদেশীয় সিরিজে তারা (বাংলাদেশ) দুই দলকেই চাপে ফেলেছিল। আমার মনে হয় তারা কিছু ভুল করে তারা নিজেদের মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায়। আমি অবাক হয়েছি তারা দ্রুতই চাপে ভেঙ্গে পড়ছে। কিন্তু আবারও বলছি, আমি যাওয়ার পরও চেয়েছি বাংলাদেশ ভালো করুক। তারা কেমন করছে তাতে আমার চোখ ছিল।’

চাপে পড়লে বাংলাদেশ কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় তা জানেন হাথরু। কিন্তু এমন চাপের সময়ে অধিনায়ক হওয়ার অভিজ্ঞতা মাহমুদউল্লার একেবারেই নতুন। অধিনায়ক সাকিব ইনজুরিতে। এতে সহ-অধিনায়ক তামিমকে টপকে অধিকায়ত্বের দায়িত্ব চাপে তার কাধে। প্রথম অভিজ্ঞতা খুব একটা যে সুখকর হয়নি তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবু শেষ ম্যাচে নিজেরা সেরাটা দিয়ে এই সযোগের সদ্বব্যবহার করতে চান মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা (অধিনায়ক হওয়া) দারুণ সুযোগ, দারুণ গর্বের বিষয়। এটা প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জীবনেই দারুণ সুযোগ। আমি সুযোগটা পেয়েছি এবং আশা করি, আমার সেরাটা পরের ম্যাচে আরেকবার দিতে পারব।’

সিরিজের ম্যাচ খেলতে শুক্রবারই সিলেট পৌঁছে দুই দল। শনিবার সকালে শ্রীলঙ্কা দল ও দুপুরে বাংলাদেশ দল সিলেট ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে। অনুশলীলনের আগে পরে দই দলের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আসলেন হাথরুসিংহে ও মাহমুদউল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে দু’জনের কাছেই জানতে চাওয়া হলো সিলেট স্টেডিয়ামের উইকেট প্রসঙ্গে।

এই সিরিজে বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে উইকেট প্রসঙ্গ। সাকিবের ইনজুরি, ওয়ানডেতে একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের গুটিয়ে যাওয়া, আড়াই দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়া- এসব কিছু সত্ত্বেও সম্ভবত এই সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত-সমালোচিত বিষয় ‘উইকেট’। উইকেটের কারণে ডিমেরিট পয়েন্টও পেয়েছে মিরপুর স্টেডিয়াম। সিলেটের উইকেট নিয়েও শঙ্কা দুই দলের।

লংকান কোচ বলেন, উইকেট এখনো শতভাগ প্রস্তুত নয়। আমরা কাল (রোববার) আবার আসব এবং দেখব কেমন হয়। এখন আমি কিছু বলতে পারছি না।
টাইগার দলপতি এখানকার উইকেট নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। তার ভাষ্যে- আমরা কিছুক্ষণ আগেই আসলাম, বিশেষ করে আমি। উইকেট ওভাবে দেখা হয়নি। আমরা উইকেট দেখব।

উইকেট না দেখায় বাংলাদেশ দলের একাদশও চ’ড়ান্ত হয়নি বলে জানান রিয়াদ। তবে পুরো ফিট থাকলে তামিমের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। একাদশে ঢুকতে পারেন রাহিও। এ প্রসঙ্গে রিয়াদ বলেন- সত্যি বলতে আমরা এখনো এটা নিয়ে কাজ করছি। এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও কথা বলা অপেক্ষামান। সব জিনিসগুলো চিন্তা করে আমরা সেরা একাদশ নির্বাচন করব। তারপরও এতটুকু বলতে পারি হয়তো বা সবারই কমবেশি খেলার সম্ভাবনা আছে।

প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে নিজেদের সর্বোচ্চ স্কোর করেও হেরেছিলো বাংলাদেশ। তাই পরের ম্যাচে আর ঝুঁকি নিতে চান না দলনেতা। বললেন- ‘এখানে চেজ করা ভাল। তাই টসটা গুরুত্বপূর্ন।’

সঙ্গে এও যুক্ত করলেন- ‘টি-টোয়েন্টিতে আমার মনে হয়, প্রত্যেকটি বিভাগেই আপনাকে ভালো করতে হবে। আপনি ব্যাটিং করেন আগে বা বোলিং করেন। আপনি যদি আপনার স্কিল এক্সিকিউট করতে পারেন, তাহলে এটাই যথেষ্ট। কে আগে ব্যাটিং আগে করল বা বোলিং আগে করল তা বড় ফ্যাক্টর না। কন্ডিশন যদি একটু ভিন্ন থাকে তাহলে টসের ইস্যুতে বিবেচনার বিষয় থাকে। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর যে তাগিদটা ওটা সবার মাথায় কাজ করছে। আশা করি, আমরা আশানুরূপ কিছু একটা মাঠে করে দেখাতে পারব। যেটা আমি আগেই বললাম যে, নিজেরা অনপ্রাণিত হওয়া, বাংলাদেশ দলকে কিছু দেওয়ার জন্য বাড়তি কিছু করা। এই জিনিসগুলো নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি। নিজেরাও ওই জিনিসটা অনুভব করছি। এবং আশা করছি, আমরা ভালো একটা শো দেখাতে পারব।’

মাহমুদল্লাহর মতো পুরো দেশবাসীরই প্রত্যাশা শেষ ম্যাচে অন্তত ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। সিলেটের মাঠে প্রথম ম্যাচে ‘ভালো একটা শো’ দেখাতে পারবে। যা আগামীর জ¦লুনী হয়ে থাকবে। এই সিরিজের পরই তো শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত