২৭ জুন, ২০১৫ ১১:৩৫
ওয়ানডে ক্রিকেটের নিয়ম নিয়ে যেন পরীক্ষা নিরিক্ষার শেষ নেই। কিছুদিন পর পরই গুরুত্বপূর্ন কিছু নিয়ম উলট পালট করে দেয় আইসিসি। ওয়ানডে ক্রিকেটের নিয়ম নিয়ে কোন একটা স্থির সিদ্ধান্তে কখনই আসতে পারছেনা ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা।
ফলে আবারও পরিবর্তন আনা হল। এখন থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে আর থাকছে না ব্যাটিং পাওয়ার প্লে। ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে ভারসাম্য আনতে ওয়ানডে ক্রিকেটের ফিল্ডিংয়ে আরও কয়েকটি পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা এখন বোলারদের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পান উল্লেখ করে আইসিসির ক্রিকেট কমিটি ব্যাটিং পাওয়ার প্লে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। বার্বাডোজে আইসিসির বার্ষিক সভায় শুক্রবার তা অনুমোদিত হয়। যদিও পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৩৫ থেকে ৪০ ওভারে উল্টো ব্যাটসম্যানরাই চাপে থাকেন বেশি। এই সময়টায় উইকেট পতনের হারও বেশি।
প্রথম ১০ ওভারে পাওয়ার প্লের সময় বাধ্যতামূলক দুই জন ‘ক্লোজ ফিল্ডার’ রাখার নিয়ম বাদ দেওয়া হয়েছে। আর এখন থেকে শেষ ১০ ওভারে ত্রিশ গজের বাইরে সর্বোচ্চ পাঁচ জন ফিল্ডার রাখা যাবে।
ফলে এখন থেকে প্রথম ১০ ওভারে সর্বোচ্চ দুই জন খেলোয়াড় ত্রিশ গজের বাইরে থাকতে পারবেন। পরের ৩০ ওভারে সর্বোচ্চ চার জন খেলোয়াড় এবং শেষ ১০ ওভারে সর্বোচ্চ পাঁচ জন ত্রিশ গজের বাইরে থাকতে পারবেন।
এখন তাই প্রয়োজন আক্রমণাত্মক বা রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজাতে পারবেন অধিনায়ক। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সব ‘নো’ বলেই এখন ফ্রি-হিট দেওয়া হবে। আগে কেবল কেবল পায়ের ‘নো’ বলে (ওভার স্টেপিং) ফ্রি-হিট দেওয়া হতো।আগামী ৫ জুলাই থেকে নিয়মগুলো কার্যকর হবে বলে আইসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন জানান, এই পাঁচ ওভারে ত্রিশ গজ বৃত্তের বাইরে মাত্র তিন জন ফিল্ডার থাকার সুযোগ নিয়ে ব্যাটসম্যানরা তাণ্ডব চালায়। সাধারণত ৩৬তম থেকে ৪০তম ওভার পর্যন্ত এই পাওয়ার প্লে নেওয়া হতো। সঙ্গে শেষ ১০ ওভার মিলিয়ে শেষ ১৫ ওভারে একটি ভালো ব্যাটিং উইকেটে ব্যাটসম্যানরা ইচ্ছেমতো মেরে খেলে।
উইকেট হাতে থাকলে শেষ দশ ওভারে যেকোন ফিল্ড প্লেসিং থাকলেও ব্যাটসম্যানরা চড়াও হবে ইতিহাস তাই বলে। তবে ৩৫ থেকে ৪০ ওভারের ব্যাটিং পাওয়ার প্লে শুরুর পর এই সময়টাই ব্যাটসম্যানদের থেকে বোলাররাই বেশি সুবিধা পাচ্ছিলেন। অতিরিক্ত চাপে পড়ে এই সময়েই উইকেট পতনের হার বেশি থাকায় এই পাওয়ার প্লে বাদ দেয়া হল কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মন্তব্য