সাজু মারছিয়াং, শ্রীমঙ্গল

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৬

লোকালয়ে বাড়ছে বন্যপ্রাণী, একদিনে উদ্ধার বিশাল আকৃতির দুই অজগর

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় পৃথক স্থান থেকে দুটি বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনগুলোর সদস্যরা সাপ দুটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

একই দিনে একই জেলায় দুটি বড় অজগর উদ্ধারের ঘটনায় বন ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা এটিকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার একটি উদ্বেগজনক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার জাগছড়া চা বাগানের ১৭ নম্বর সেকশনে চা-শ্রমিকরা কাজ করার সময় হঠাৎ একটি বিশাল আকৃতির অজগর দেখতে পান। সাপটি দেখে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা কাজ বন্ধ করে দেন।

পরে বিষয়টি বাগানের স্টাফ সেলিম মিয়াকে জানানো হলে তিনি বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং বন বিভাগের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩০ কেজি।

একই দিন দুপুরে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি চা বাগান থেকেও আরেকটি বড় অজগর উদ্ধার করা হয়। বন বিভাগের দিকনির্দেশনায় ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স (সিসিএ) অভিযান পরিচালনা করে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।

উদ্ধার অভিযানে ফুলবাড়ি চা বাগানের ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান আশিক মিয়া, সহকারী ব্যবস্থাপক মো. রেজা, টিলা স্টাফ মোহাম্মদ রুবেল, মোহাম্মদ জিয়ারুল ইসলাম ও মো. জুবায়ের অংশ নেন। এ সময় চা-শ্রমিকেরাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।

কেন লোকালয়ে আসছে বন্যপ্রাণী?

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকা পাহাড়, টিলা, বনাঞ্চল এবং বিস্তীর্ণ চা বাগানঘেরা। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অজগর, বানর, মেছোবাঘ, গন্ধগোকুল, সাপ এবং নানা প্রজাতির পাখির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।

তবে পরিবেশকর্মীরা বলছেন, বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা, জনবসতি সম্প্রসারণ, রিসোর্ট নির্মাণ এবং বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে ওঠার কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যের উৎস সংকুচিত হচ্ছে। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা ক্রমেই লোকালয়, চা বাগান এবং সড়কের কাছাকাছি চলে আসছে।

এর ফলে একদিকে যেমন বন্যপ্রাণী মানুষের সামনে পড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে অনেক প্রাণী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে বা মানুষের হাতে নিগৃহীত হচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বন বিভাগ নিয়মিত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এসব প্রাণীকে উদ্ধার করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করছে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অঞ্চলে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ উদ্ধারের ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে। তাঁদের মতে, এটি কেবল উদ্ধার অভিযানের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং বনাঞ্চলের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত