নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই, ২০২৬ ০০:৪৭

শৌখিন হোক, তবুও এ গান এক ফালি প্রতিরোধ

বৃষ্টির গানের সাথে শাড়ি পড়ে নিজের হাঁটাহাটির ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। তাতেই একটি গোষ্ঠির তোপের মুখে পড়তে এই শিক্ষিকাকে। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-বুলিং করেন কেউ কেউ। এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করছেন তারা। ফেসবুক সয়লাব হয়ে গেছে ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানে। বৃষ্টির একটি গান আর তার সঙ্গে ভিডিও হয়ে ওঠেছে সাইবার বুলিং ও মুর‌্যাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আর উগ্রবাদকে প্রতিরোধের মাধ্যম। শিল্পী কবির সুমন তার ‘ফুলমনি ইশরাত’ গানে যেমন বলেছিলেন, ‘শৌখিন হোক, তবুও এ গান এক ফালি প্রতিরোধ’।

গানে গানে এই প্রতিবাদের ঝড় দেখে এক্টিভিস্ট সুদীপ্ত বিশ্বাস বিভু ফেসবুকে লখেছেন, ‘সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বিউটি পালের রিল নিয়ে ইতরের দল বডি শেমিং আর টিটকিরির ঝড় বইয়ে দিয়েছিল। সেটার বিপরীতে দাঁড়িয়ে দেশের আনাচে-কানাচের প্রাথমিক শিক্ষকেরা রিল বানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করছেন। তাঁরা নাচছেন, গাইছেন, আনন্দ করছেন। এর চেয়ে সুন্দর প্রতিরোধ আর হয় না। গলা উঁচিয়ে নয়, চোখ রাঙিয়েও নয়-শুধু গানের তালে পা মিলিয়ে শিক্ষকেরা পদানত করেছেন মৌলবাদীদের, পুরুষবাদীদের ও রক্ষণশীলদের।’

‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ এই গানটির মূূল শিল্পী ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল মেজবাহ রহমান। নিজের গান এমন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠায় বিস্মিত মেসবাহও। গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই গানটা আমরা সব সময়ই গাই। এটা চিরন্তন বৃষ্টির গান, বর্ষার গান, প্রকৃতির গান। ১৯৮৯ সালে গানটি তৈরি করি, ১৯৯০ সালে প্রকাশ করি। ৩৬ বছর পরও এর আবেদন একটুও কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এটাও এক ধরনের ভিন্ন অনুভূতি।’

বিউটি রানী পাল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

বিউটি রানী পালের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি প্রায়ই নিজের ফেসবুক একাউন্টে তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, বাচ্চাদের শরীর চর্চা করানো, শিশুদের নাচ গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন পড়া শেখানো, শিক্ষাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করার ভিডিও আপ দিতেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের মেজবার গাওয়া ‘আজ কেন মন, উদাসী হয়ে’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সুন্দর শাড়ি পড়ে পরিপাটি অবস্থায় ভিডিও পোস্ট নিয়ে সমালোচনা ও ট্রল শুরু করে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী।

এরপর বিউটি পালের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা নিজেদের বিদ্যালয়ের সামনে তার মতো হেঁটে হেঁটে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গে ফেসবুকে নিজের ভিডিও আপ করছেন। অনেকেই তার ছবি ভিডিও দিয়ে পোস্ট করে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

আর গানের ভিডিও দেওয়ায় এমন হেনস্তাকে সংকীর্র্ণ মানসিকতার পরিচয় বলছেন বিউটি রানী পাল। সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে থানায় অভিযোগও দিয়েছেন তিনি। অপরদিকে, সিলেট সফরে এসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিউটি পালের গানের ভিডিও দেওয়ার ঘটনায় তিনি অন্যায় কিছু দেখছেন না।

এদিকে, বিউটি রানীর ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে সমেলোচনার পর তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়িছিলো সিলেটের শিক্ষা প্রশাসন। তবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর তদন্তের সিদ্ধান্ত থেকে সোমবার সরে এসেছে তারা।

থানায় জিডি:
অনলাইনে ভিডিও ছড়িয়ে হেনস্তা ও সাইবার বুলিংয়র অভিযোগে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। কয়েকটি ফেসবুক পেজের নাম উল্লেখ করে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

এ তথ্য জানিয়েছেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান।

তিনি বলেন, ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় জিডি করেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল। জিডিতে ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’সহ কয়েকটি ফেইসবুক পেইজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি বলেন, শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের জিডির পর অভিযুক্ত ফেসবুক আইডিগুলো আমরা সনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে পুলিশের সাইবার সংশ্লিস্ট শাখার সহযোগীতা নেওয়া হচ্ছে। আইডিগুলো সনাক্ত হলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।

তবে এ ব্যাপারে সোমবার বিকেল ও সন্ধ্যায় বিউটি রানী পালের মোবাইল ফোন ও হোয়াটস অ্যাপে একাধিকার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

তবে এরআগে বিউটি রানী বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে এখন কিছু বলতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমাকে বক্তব্য দিতে হবে।

বিউটি পালের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের একটি ফেইসবুক পেজ থেকে নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে আসিফ ইকবাল ইরন নামে এক প্রবাসী তরুণ ভিডিওটি ছড়িয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও সামাজিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল।

সমালোচনার জবাবে শিক্ষিকা বিউটি রাণী পাল রোববার বলেছিলেন, আমরা মুখে বলব কারিকুলাম উন্নত, আর আমাদের মন-মানসিকতা থাকবে সংকীর্ণ-তাহলে আমরা কীভাবে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেব?

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত, এভাবে সামাজিকভাবে হেনস্তা করা কাম্য নয়।

ভিডিও ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আসলে রিল (গানসহ ছোট ভিডিও) বানাতে জানি না। এক সহকর্মীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে রিল বানানো হয়। স্কুল ছুটির পর বিদ্যালয়ের আঙিনায় হেঁটে যাওয়ার সময় তিনি ভিডিওটি ধারণ করেন।

আক্ষেপ প্রকাশ করে এই শিক্ষিকা বলেন, আমাদের মন-মানসিকতা যদি ডিজিটাল, স্মার্ট ও উন্নত করতে না পারি, তাহলে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না। আমাদের সব দিক থেকেই সমানতালে এগিয়ে যেতে হবে।
শিক্ষিকার অভিযোগের বিষয়ে আসিফ ইকবাল বলেন, ‘আমি ম্যাডামকে আদাব দিয়ে ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছি। আর কিছু বলিনি।’

যা বললেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে ‘আজ কেন মন, উদাসী হয়ে’ গানের তালে তার হেঁটে চলার ভিডিওটি নিয়ে চলছে আলোচনা। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘গান গাওয়া তো অপরাধ কিংবা অন্যায় কিছু না।’

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকালে সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সোশ্যাল মিডিয়াও নেই। তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটিতে কোনও অশ্লীলতা নেই। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরিভাবে ক্লাস ফোর ও ফাইভে কালচারাল এডুকেশন নিয়ে আসছি। কালচারাল এডুকেশনের ভেতরে গান-নাটক, কবিতা, কেরাতসহ সবকিছু থাকবে।’

তদন্ত থেকে সরল শিক্ষা প্রশাসন
বিউটি রানী পালের আলোচিত ভিডিও নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের করার সিদ্ধান্ত নিয়ছিলো সিলেটের শিক্ষা প্রশাসন। তবে সোমবার তারা এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

এ ঘটনায় আর তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে না বলে সোমবার বিকেলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ।

বিকেলে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, আমরা ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, গতকাল (রোববার) মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, ‘এ ঘটনায় অন্যায় কিছু দেখছেন না’। আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে ভিডিওর ঘটনায় অন্যায় কিছুই পাইনি। তাই খামাখা এই ঘটনায় আর তদন্ত কমিটি করে কী লাভ? আর কোন কমিটি গঠন হবে না।

তিনি বলেন, ওই শিক্ষিকা ট্রলের শিকার হচ্ছেন, মানসিকভাবে তিনি নার্ভাস আছেন। আমরা তার মানসিক বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছি।

তবে রোববার এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেছিলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ফেসবুকজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়
বিউটি রানী পালকে হেনস্তার প্রতিবাদে ফেসবুকে রীতিমত ঝড় বইছে। দুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার শীর্ষে সিলেটের এই স্কুল শিক্ষিকা। তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন অসংখ্য মানুষ। প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সাইবার বুলিংয়ের। গানের ভিডিওর সাথে বিউটি পালের সাথে সংহতি জানাচ্ছেন সবাই।

সাংবাদিক রিমু সিদ্দিক ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করে লিখেছেন- বিউটি রানী পালের বৃষ্টির গানে আমারও একটুখানি বৃষ্টি উপভোগ। বৃষ্টি কখনো উল্লাস, কখনো আনন্দ, কখনো বিরহ আবার কখনো বেদনা। প্রত্যেকে নিজের অনুভূতি দিয়ে বৃষ্টিকে উপলব্ধি করে। তাই প্রকৃতিকে উপভোগ করা অশালীনতা বা অপরাধ হিসেবে দেখার কোনো কারণ দেখি না।

গানের সাথে ভিডিও দিয়ে শিক্ষিকা দিপা মন্ডল লিখেছেন, শিক্ষকদের নাকি নাচ, গানে, অভিনয়ে পারদর্শী হতে হয়। তবে আজ কেন এত কথা?? যন্ত্রের মত শুধু শ্রেণীতে সব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সাথে ক্লাসে পাঠে মনোযোগী করতে, একঘেয়েমি দূর করতে, পাঠে আনন্দের সাথে উপস্হাপন করতে শিক্ষককে সব করতে হবে। আর সেই শিক্ষকের কোন মন থাকবেনা, থাকবেনা কোন আনন্দের মুহুর্ত। এটাই তো??? একজন সম্মানিত শিক্ষক শাড়ী পরিহিত অবস্থায় কি করে অশ্লীলতা প্রকাশ করতে পারে?? সে তো প্যান্ট শার্ট বা টপস পরিহিত ছিলেন না। তবে হোক প্রতিবাদ।

গোপালগঞ্জের এক প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক আফরোজা লিপি স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে গানের ভিডিও দিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন: ‘সমালোচনা আমারও হতে পারে; কারণ, আমি শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, খেলাধুলা, নাচ, গান, কবিতা, অভিনয়, বিতর্ক সবকিছু আমাকে শেখাতে হয় এবং শেখাই কারণ, আমি শিক্ষক। এটা আমার পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য; যা আমি সঠিকভাবে পালন করি।’
বরিশালের শিউলি রানী ওই গানের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে হেঁটে বেড়ানোর ভিডিও দিয়ে সপাটে প্রশ্ন ছুড়লেন, ‘আমাদের শিশুদের নাচ, গান, অভিনয় শেখাতে হবে; কিন্তু আমরা ভিডিও দিতে পারব না? কারণ, আমরা শিক্ষক?’

মাদারীপুরের এক স্কুলশিক্ষক শিরিন সুলতান সম্পা এই গানের সঙ্গে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাচ্চারা তাঁকে জড়িয়ে ধরছে, বাচ্চাদের তিনি মাতৃস্নেহে আদর করছেন। আর ক্যাপশনে লিখেছেন: ‘হোক না নীরব প্রতিবাদ, শিক্ষকেরাও মানুষ। শিক্ষকদের শখ, ভালো লাগা, মন্দ লাগা কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে, স্কুলের প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণি ছুটি হয়ে গেলেও ওরা দাঁড়িয়ে ছিল আমার অপেক্ষায়।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত