১৫ অক্টোবর, ২০১৫ ২৩:২৭
শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামী কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনায় সন্তুষ্টি জানিয়েছেন রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান। তবে হত্যাকাণ্ডের পর কামরুলকে কারা সৌদি আরব যেতে সহায়তা করেছেন এবং কিভাবে কামরুল সৌদি আরবে গেলেন তা কামরুলের মুখে শুনতে চেয়েছেন তিনি। একই সাথে সুবিচার পাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা এখনো পুরোপুরি না কাটার কথাও উল্লেখ্য করেন তিনি।
সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, "কামরুলকে ফিরিয়ে আনায় একটা অগ্রগতি হয়েছে, এতে আমি খুশি কিন্তু যতক্ষণ না পর্যন্ত তাঁর ফাঁসি হবে ততক্ষণ আমাদের মন শান্তি পাবেনা। আমার সন্তানের আত্মাও শান্তি পাবে না।"
তিনি বলেন, "কামরুলকে যদি পালাতে সহযোগিতা করা না হতো তবে তাকে সৌদি থেকে ফেরাতে সরকারের এতো টাকা ও কষ্ট করতে হতো না। এর সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কারা তাকে পালাতে দিয়েছে তা আমি তাঁর মুখেই শুনতে চাই"
প্রতিপক্ষের আইনজীবীদের চালানো প্রোপাগান্ডা উদ্বিগ্ন সন্তানহারা এই পিতা বলেন, "তারা রাজন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, হাইকোর্টে গেলে এসব মামলা দুর্বল হয়ে যাবে বলেও বলাবলি করছে, সেই জায়গায় আমার আশঙ্কা কাটেনি"
প্রায় সব আসামী গ্রেফতার হওয়ায় দ্রুত এই মামলা নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "সাক্ষ্য প্রমাণ সব এখন আদালতের হাতে, আসামী কারাগারে সুতরাং দ্রুত বিচার শেষ করে আমার ছেলের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হোক"।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তা রাজন হত্যার প্রধান আসামী কামরুলকে নিয়ে দেশে পৌঁছান।
গত ১১ অক্টোবর তিন সদস্যের পুলিশ দল কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরব যায়। ওই টিমে রয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল করিম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রহমত উল্লাহ ও বিমানবন্দর থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন। তারা ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনেন কামরুলকে।
গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে ভ্যান চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর সৌদি আরব পালিয়ে গিয়ে গত ১৩ জুলাই আটক হন কামরুল।
রাজন হত্যার ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, কামরুল ইসলাম লাঠি হাতে রাজনকে মারধর করছেন।
এই হত্যা মামলার অপর আসামীরা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও কামরুলকে রাজন হত্যার জন্য দায়ী করেন।
কামরুল ছাড়াও রাজন হত্যা মামলার বাকি আসামিরা হলেন- মুহিদ আলম, আলী হায়দার, শামীম আহমদ, পাভেল আহমদ, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।
রাজনকে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ও গণমাধ্যমগুলো বিষয়টি নিয়ে সরব হলে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এর মধ্যে মুহিদের ভাই সৌদি প্রবাসী কামরুলের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তিনি সৌদি পালিয়ে যান। কিন্তু ১৩ জুলাই সৌদি প্রবাসীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদারতে রাজন হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ চলছে। আজকে পর্যন্ত ৩৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এই মামলায় আরো তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে গত ১৬ অগাস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার।
এরপর ২২ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
আসামিদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতকদের মধ্যে কামরুলের ভাই সদর উপজেলার শেখপাড়ার বাসিন্দা শামীম আহমদের সঙ্গে পাভেল আহমদ নামে আরেকজন রয়েছেন। কামরুলের আরেক ভাই এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
আপনার মন্তব্য