১৯ অক্টোবর, ২০১৫ ১৯:০৯
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেট নিক্ষেপে ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগের এ সংঘর্ষ চলার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চালায় উভয় পক্ষ। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়।
সংঘর্ষে কলেজ ক্যাম্পাসে ভীতি ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছুটোছুটি করেন। সংঘর্ষের আধ ঘন্টা পর বিয়ানীবাজার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
জানা যায়, উপজেলা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সবুজকে সকাল ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে একা পেয়ে প্রতিপক্ষ উপজেলা ছাত্রলীগ পাবেল গ্রুপের সোহানসহ ৪/৫ জন মারধর করে। এতে সবুজ আহত হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উভয় পক্ষ সংঘটিত হতে থাকে। ১২টার দিকে ছাত্রলীগ এক গ্রুপ প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে। বিয়ানীবাজার পৌর শহর প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি ক্যাম্পাসে ফিরলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ১০/১২জন নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন।
বিয়ানীবাজার থানার এসআই আমিনুর রহমানের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। উল্টো পুলিশের সামনে ছাত্রলীগের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুবের আহমদ ক্যাম্পাসে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে দুপুর ১২টার পর কলেজে কোন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি।
ছাত্রলীগের সংঘর্ষে সবুজ, সোহান, রুমন, খয়রুলসহ কয়েকজন আহত হন।
ছাত্রলীগ একটি গ্রুপের নেতা কাওছার আহমদ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বিয়ানীবাজারে আসার তারিখ নির্ধারণ হলেই পাবেল গ্রুপ গায়ে পড়ে সংঘর্ষে জড়ায়। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আজ পাবেল গ্রুপ আমাদের লক্ষ্য করে অর্থনীতি বিভাগের ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গুলি ছুঁড়ে। এরপর বখাটেদের নিয়ে পুলিশের সামনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
গুলি ছুঁড়া এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ পাবেল গ্রুপের নেতা সামাদ আহমদ বলেন, পুলিশ প্রহরায় প্রতিপক্ষ আমাদের উপর আক্রমন করেছে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবের আহমদ বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। এ ঘটনা থানা কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আপনার মন্তব্য