নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ ১০:৩৬

উদ্বেগ উৎকন্ঠায় সিলেট বোর্ডের ৭২ হাজার ২৩০ জন পরীক্ষার্থী

পরীক্ষা হবে কি হবে না এই নিশ্চয়তাও যেমন এখন মেলেনি আর হলেও নিরাপদে পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে তো জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া দেশের এক ঝাঁক ভবিষৎ?


সিলেট বোর্ডের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক ৮১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭২ হাজার ২৩০ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে সোমবার শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা । এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৪ হাজার ১৪৫ জন। বেড়েছে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যাও। এবার ৪টি পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে । গতবার এ সংখ্যা ছিল ১১৫। কিন্তু বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ এবং রোবরার থেকে শুরু ৭২ ঘন্টার হরতালে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা । উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে দেশব্যাপী বেপরোয়া নাশকতার চিত্র! পরীক্ষার্থীদের জন্য কোন সমাবেদনা দেখাবেন অবরোধ-হরতালকারীরা এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছেনা ।

পরীক্ষা হবে কি হবে না এই নিশ্চয়তাও যেমন এখন মেলেনি আর হলেও নিরাপদে পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে তো জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া দেশের এক ঝাঁক  ভবিষৎ?
কাজেই চরম শঙ্কা, উদ্বেগ আর গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে এবারের এসএসসি পরীক্ষা ।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বোর্ডের ৭২ হাজার ২৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ হাজার ৪৬১ জন ছাত্র ও ৩৯ হাজার ৭৬৯ জন ছাত্রী। এবার ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী সংখ্যা ৭ হাজার ৩০৮ জন বেশি। গতবারও ছাত্রী সংখ্যা বেশি ছিলো ৭ হাজার ৭৩৭ জন। জেলাওয়ারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সিলেট জেলায়। এ জেলায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ১২০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১২ হাজার ৩১৪ ও ছাত্রী ১৪ হাজার ৮০৬ জন। সুনামগঞ্জে মোট ১৪ হাজার ৯৭০জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ২০ জন ও ছাত্রী ৭ হাজার ৯৫০ জন। মৌলভীবাজার জেলায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৫৭ ও ছাত্রী ৯ হাজার ৪৮৩ জন। সর্বনি¤œ পরীক্ষার্থী হবিগঞ্জ জেলায় ১৩ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার  ৭০ জন ছাত্র ও ৭ হাজার ৫৩০ জন ছাত্রী। শিক্ষার্থীরা নানা প্রশ্ন নিয়ে এবারের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন। আগামীকাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কিনা এমনও অনিশ্চয়তা রয়েছে তাদের মধ্যে।

এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী নুজহাত তাসনিয়া জানায়, - "২ তারিখের পরীক্ষা হবে কি হবে না এটা শিওর না হওয়ায় কি পড়ব বুঝতে পারছিনা" ।  তাসনিয়ার বাবা শামসুল ইসলাম বলেন,- " ছেলেমেয়েদের এরকম অনিশ্চয়তায় ফেলার নাম রাজনীতি হলে সেই রাজনীতির কোন দরকার নাই" ।

একই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থী  শাকিল আহমদ জানায়- পরীক্ষার সম্পূর্ন প্রস্তুতি নেয়া সম্পন্ন কিন্তু পরীক্ষা হবে কি হবে না এই বিষয় নিশ্চয়তা না পেলে মানসিক অশান্তি লাগে ।
 
ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজে প্রবেশপত্র নিতে আসা পরীক্ষার্থী সোহেল জানালো, ভাই খুব টেনশনে আছি। পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে হয়তো কিন্তু প্রস্তুতি নিতে পারছি না মানসিক অশান্তির কারণে।

সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী সৌমিক দে, সিলেট অগ্রগামী গার্লস হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী তন্বি দাশও একই রকম অনুভূতি প্রকাশ করে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে ।

সিলেট সরকারী অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলী পুরকায়স্থ বলেন, পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। আশা করি সবকিছু ঠিকঠাক হলে পরীক্ষা যথাসময়েই শুরু হবে।  সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান খাঁন বলেন, পরীক্ষার অনুষ্ঠানের জন্য আমরা যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। ইতিমধ্যে স্ব স্ব কেন্দ্রে পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে খোজ খবর নেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকটাক হলে পরীক্ষা যথাসময়েই সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরো জানান, এবার বোর্ডের ৪টি পরিদর্শন টিম সার্বক্ষণিক পরীক্ষার পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আর পরীক্ষার হলগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিদিন ৬২টি ভিজিলেন্স টিম দায়িত্ব পালন করবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে  সিলেটের পুলিশ সুপার নরে আলম মিঞা বলেন, পরীক্ষায় বাড়তি নিরাপত্তার জন্য আমরা চিন্তা ভাবনা করছি। যাতে কোন পরীক্ষার্থী নিশ্চিতভাবে পরীক্ষা হলে পৌঁছাতে পাড়ে। এ ব্যাপারে যে কোন ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে, তিনি জানান। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বোর্ডের সচিব  গোলাম কিবরিয়া তাপাদার বলেন, পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গনেও যদি সহিংসতা ঘটে তাহলে জাতিকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। যে ক্ষতি কখনো হিসাব করা যায় না। কিন্তু তার প্রভাব সারাটাজীবন জাতীকেই বহন করতে হবে।  



আপনার মন্তব্য

আলোচিত