নিজস্ব সংবাদাদাতা, মৌলভীবাজার

১০ অক্টোবর, ২০২১ ০১:১২

শ্রীমঙ্গলে এবার ১৬৬ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ১৬৬টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।  এরই মধ্যে উপজেলার প্রায় সব মণ্ডপের প্রস্তুতি শেষ। সব মণ্ডপেই চলছে পূজার শেষ মুহুর্তের কাজ।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, সব মন্দিরে চলছে মণ্ডপের সাজ-সজ্জার কাজ। দিন রাত পরিশ্রম করে প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। বসে নেই ডেকোরেটার্স কর্মীরাও, বাশ, দঁড়ি, টিন, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে তারা তৈরী দিচ্ছেন ছোট বড় মণ্ডপ।
 
পূজাকে সামনে রেখে শহরের বিপনী বিতানগুলোতে নানা বয়সের সনাতন ধর্মালম্বীরা নতুন কাপড় কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়েছেন। পূজা উপলক্ষে কাপড় বিক্রয় করে করোনা কালের হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেক ব্যবসায়ী।

শহরের সাইফুর রহমান মার্কেটের তপু ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী শেখ সারোয়ার জাহান বলেন, করোনার কারনে আমাদের দীর্ঘদিন ব্যবসা বন্ধ ছিলো। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ব্যবসা তেমন বাড়েনি। প্রতিবছর শারদীয় দুর্গা পূজায় আমাদের বেশ ভালো কাপড় বিক্রি করতে পারি। লোকজন নতুন কাপড় কিনতে শহরের বিপনী বিতানগুলোতে আসতে শুরু করেছেন। আশা করছি করোনা কালে হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবো।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সুশীল শীল বলেন, আগামী ১১ অক্টোবর সোমবার দেবীর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হবে বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর পূজা শেষ হবে। এবছর শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৫৩ টি সার্বজনীনও ১৩টি ব্যক্তিগত পূজা মিলিয়ে মোট ১৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গা পূজার বিষয় নিয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে সভা করেছি। যেহেতু করোনা ভাইরাসের প্রভাব এখনো রয়েছে, তাই প্রতিটি পূজা মণ্ডপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছু করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়া দশমী শোভাযাত্রা না করার জন্য বলা হয়েছে।

বৈদিক সেবা সংস্থার মূখপাত্র অপিক দেব বলেন, আমরা পুলিশি পাহারায় পূজা করতে চাই না। কিন্তু প্রতিবছর পূজাকে কেন্দ্র করে একটি অপশক্তি কোথাও কোথাও প্রতিমা ভাঙচুর করে সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তাই আমরা প্রশাসনের কাছে পূজায় হিন্দু সমাজের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই। আমরা মনে করি দেশে যেহেতু সবধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান হচ্ছে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা করা হোক।  এছাড়া তিনি সরকারের কাছে হিন্দু সমাজের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে আমরা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভা করেছি । প্রত্যেক পূজা মণ্ডপের অনুকুলে চাল বরাদ্ধ করা হয়েছে।সেই চাল আমরা বিতরণ করে দিবো। প্রত্যেকটি পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার মোতায়েন করা হবে। শারদীয় দুর্গোৎসব পালনের বিভিন্ন নির্দেশনা আমরা দিয়েছি।  আমরা আশা করছি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গা পূজায় অংশ নিবেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত