সালমান ফরিদ

২৮ জুন, ২০২৬ ১৯:০৯

ওয়াকার উজ-জামান: শহিদ জিয়ার পর কেন তিনি সফল সেনাপ্রধান?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাস যেমন গৌরবোজ্জ্বল শৌর্য-বীর্যের, তেমনি তা নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্রান্তিলগ্নে দিক-নির্ণয়ের গুরুভার বহনেরও। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে যে বাহিনীর জন্ম, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর, আধুনিকায়ন এবং সুশৃঙ্খল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের অবদান ঐতিহাসিকভাবে অনস্বীকার্য।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশ যে নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে গিয়েছে, সেই তীব্র সংকটে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যে অসামান্য দূরদর্শিতা ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ওই সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে বিরুদ্ধ মত থাকলেও রাজনৈতিক নৈতিকতার জায়গা থেকে একে অস্বীকার করা কঠিন।

ওই সময় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকার মূল্যায়ন বা উপরের বক্তব্য বুঝতে হলে বিবেচনায় নিতে হবে কিছু ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। যা সত্য এবং আমাদের জন্য ছিল অবধারিত। ক্ষমতার চরম মোহ ও ভূ-রাজনৈতিক চাপকে উপেক্ষা করে দেশ এবং জনগণের পক্ষে তাঁর নেওয়া সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো রাখতে হবে সবার আগে। এ ক্ষেত্রে তাঁর সামনে আছেন শহিদ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এ অবস্থায় কেন তাঁকে শহিদ জিয়াউর রহমানের পর সবচেয়ে সফল সেনাপ্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে—এমন প্রশ্নের জবাব পেতে প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা অনুধাবন করতে হবে। ফিরে যেতে হবে খানিকটা পেছনে। সদ্য তৈরি হওয়া তরতাজা ইতিহাসের পাতায়।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আগস্টের শুরুতে সর্বাত্মক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির দিন লাখ লাখ ছাত্র-জনতা যখন ঢাকার অভিমুখে বানের পানির মতন ধাবিত হচ্ছিল, তখন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের যেকোনো মূল্যে—প্রয়োজনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করে—দমনের তীব্র রাজনৈতিক চাপ দেয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রাষ্ট্রযন্ত্রের সেই অন্যায় ও আত্মঘাতী আদেশ প্রতিপালন করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অহিংস অবস্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এখানে মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দেশে সেনাবাহিনী যদি সেদিন জনগণের মুখোমুখি দাঁড়াত, তবে দেশ নিশ্চিতভাবে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হতো। ফলাফলে কী হতো? হাজার হাজার প্রাণহানি হতো, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংস হতো। ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনৈতিক চরম সংকট তৈরি হতো। কিন্তু তাঁর এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে ওই জায়গা থেকে দেশকে রক্ষা করে তিনি এক অনন্য ‘রক্তপাতহীন ক্ষমতার রূপান্তর’ নিশ্চিত করেন, যা সামরিক ইতিহাসে বিরল। এমন কি বাংলাদেশের ইতিহাসেও!

ওইসময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আকস্মিক পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব শাসনতান্ত্রিক শূন্যতা তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ের পুলিশ প্রশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, দেশের কারাগারগুলো থেকে কয়েদিরা পালিয়ে যায় এবং সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী কাঠামো স্থবির হয়ে পড়ে। এই চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে জেনারেল ওয়াকার কোনো প্রকার বিলম্ব না করে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল (বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল), সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সামরিক সদরে জরুরি বৈঠকে আহ্বান করেন।

গভীর অনুধাবনের ব্যাপার হলো, ক্ষমতার চাবিকাঠি নিজের হাতে থাকা সত্ত্বেও তিনি তখন ‘সামরিক শাসন’ বা ‘মার্শাল ল’ জারির সনাতন ঔপনিবেশিক রাস্তা বেছে নেননি। বরং তখন কী করেছেন? ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে মান্যতা দিয়ে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনে পূর্ণ সমর্থন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া তাঁর সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছার বড় প্রমাণ এবং এটি তাকে অনন্য উচ্চতা দিয়েছে। ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে উঠে তার সেই পদক্ষেপ ছিল দেশ ও দশের পক্ষে। অথচ চাইলেই তিনি হতে পারতেন তার ঠিক বিপরীত চরিত্রের। নিজেকে বসাতে পারতেন ক্ষমতার চেয়ারে। তিনি তা না করে পরিচয় দিলেন ইতিহাসের অনন্য পেশাদারত্বের।

আসুন, আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা একটু পেছনে ফিরে যাই। ইতিহাসের পাতায়। নিশ্চয় মনে আছে, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর পরবর্তী সময়ে শহিদ জিয়াউর রহমান যখন সেনাবাহিনীর হাল ধরেন, তখন তিনি একটি দর্শন প্রচার করেছিলেন—"সেনাবাহিনী কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়, এটি জনগণের অংশ।"

এটি ছিল মূলত একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো যন্ত্রকে সার্বজনীন করে তোলার প্রধান ও প্রথম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তিনি মূলত সেনাবাহিনীকে উৎপাদনমুখী কাজে লাগানো এবং ব্যারাকে বন্দি না রেখে জনগণের মনস্তত্ত্বের সাথে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

এবার চলুন, জিয়ার সাথে জেনারেল ওয়াকারের ঠিক কোন জায়গায় এবং কী রকম যোগ-সংশ্লিষ্টতার খোঁজ মেলে—তা খতিয়ে দেখা যাক। ২০২৪ সালের আগস্টের সংকটে জেনারেল ওয়াকার একটি অস্বাভাবিক সময়ে ঠিক এই দর্শনেরই আধুনিক রূপায়ণ ঘটিয়েছিলেন। তিনি টেলিভিশনে সরাসরি ভাষণে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনারা সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখুন, আমরা জনগণের জানমালের ক্ষতি হতে দেব না।" তার এই একটি বক্তব্যই পুরো সময়টাকে একটি কল্যাণকর পথে মোড় দিয়েছিল। যা ছিল এক অপ্রত্যাশিত সত্যের মতন।

এর পরপরই পুলিশহীন বাংলাদেশে যখন এখানে-ওখানে হামলা, পুলিশ হত্যা, ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঝুঁকি তৈরি হয়, তখন তিনি দ্রুত দেশজুড়ে সেনা মোতায়েন করেন। সীমিত জনবল ও তীব্র প্রতিকূলতার মধ্যে বিচারিক ক্ষমতা পাওয়ার পর সেনাবাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়, যা শহিদ জিয়ার সেই ‘জনগণের সেনাবাহিনী’ ধারণাকে পুনর্ব্যক্ত করে।

পাশাপাশি আরেকটি বিষয় আমাদের স্মরণে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্যতম বড় শক্তি ও গৌরবের জায়গা হলো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে এর শীর্ষ অবস্থান। আর এটা স্বীকার্য যে, এই অবস্থান ধরে রাখা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও সামরিক মর্যাদার জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সংকটকালে যদি সেনাবাহিনী জনগণের ওপর কোনো প্রকার বলপ্রয়োগ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাত, তবে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি কাউকে দেননি। বরং ওই পরিস্থিতিতে জেনারেল ওয়াকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর তীব্র ভূ-রাজনৈতিক নজরদারি ও নানামুখী সমীকরণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলে নেন। মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিনি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের এক উচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করেন, যার ফলে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি বাহিনীদের অবস্থান আরও সুসংহত হয়।

শহিদ জিয়াউর রহমান এবং জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মেধা, নেতৃত্ব এবং সংকট উত্তরণের তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায়, উভয়েরই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত জটিল, কিন্তু সমাধানের পথ ছিল ভিন্ন ও স্বকীয়। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের পটভূমি ছিল মূলত সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা, ক্যু-পাল্টা ক্যু এবং একটি সদ্য স্বাধীন দেশের চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। শহিদ জিয়াকে প্রথমে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর হতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি দেশের হাল ধরতে বাধ্য হন। পক্ষান্তরে, ২০২৪ সালে জেনারেল ওয়াকারের সামনে সংকটটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—এটি ছিল একটি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এখানে তাঁর মূল চ্যালেঞ্জ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের বা ‘জেনারেশন জেড’ (Gen Z)-এর আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা। শহিদ জিয়াউর রহমান তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতায় নিজেই রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আরোহণ করেন। তিনি সামরিক পোশাক পরিবর্তন করে বেসামরিক রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তনসহ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করেন। তার মধ্যে ছিল, খাল খনন কর্মসূচি, ১৯ দফা, ইত্যাদি।

ঠিক এই জায়গাতেই জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। পূর্ণ ক্ষমতা তাঁর হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও, তিনি নিজেকে কেবল একজন সামরিক পেশাদার হিসেবেই সীমাবদ্ধ রাখেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রকাশ করেননি, উচ্চ আকাঙ্ক্ষাও দেখাননি। বরং তিনি দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়ে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যাক-অফিস সাপোর্ট বা পেছন থেকে কাঠামোগত নিরাপত্তা দিয়ে গেছেন। যেখানে শহিদ জিয়া ছিলেন একজন ‘মিলিটারি স্টেটসম্যান’, সেখানে জেনারেল ওয়াকার নিজেকে প্রমাণ করেন একজন প্রাতিষ্ঠানিক ত্রাণকর্তা হিশেবে। তবে এখানে দুজনের প্রেক্ষাপট ও সময় ভিন্ন ছিল বলে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তেও ভিন্নতা এসেছে। যা উভয়ের জন্য ছিল জরুরি এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটা বিষয় আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা যায়। ২৪-এর আগস্টের আগে-পরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার ভারতের সুরে কথা বলতে পারতেন। সেজন্য প্রচন্ড চাপ থাকার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু কোনোভাবেই তিনি প্রতিবেশীর মন্ত্র কানে তুলে নেননি। এ জন্য তাকে নানা উপায়ে দেশের ভেতরে-বাইরে থেকে বিতর্কিত করার এবং সমালোচনায় ফেলবার চেষ্টা করা হয়। সেসময় তার বীরোচিত ভূমিকার কারণে দেশ আজ দারুণ সুফল ভোগ করছে। সীমান্তে বিজিবি জোর গলায় বিএসএফকে চোখ রাঙানি দিয়ে বলতে পারছে, 'আপনি গুলির কথা বলেন কেন? আপনি গুলি করলে আমরা কি চুড়ি পরে বসে থাকবো?' কিন্তু এই সাহসিকতা বিজিবির কণ্ঠে থাকতো না, যদি ওয়াকার সেসময় আত্মসমর্পণ করতেন!

ঠিক এই পরিবেশটা হয়েছিল শহিদ জিয়াউর রহমানের সময়ে। সেনাবাহিনীর কোমরে জোর আসছিল এবং তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে, আমাদের অস্তিত্ব সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে, সার্বভৌমত্বকে বর্গা রাখার জন্য নয়। দেশের সর্বোচ্চ বাহিনীর ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক এই উত্তরণের কারণেই সেনাবাহিনী আজ আমাদের গর্বের ধন।

তারই ধারাবাহিকতায় অভ্যন্তরীণ ভাবেও শহিদ জিয়াউর রহমান যেভাবে পঁচাত্তর-পরবর্তী ভঙ্গুর, বিভক্ত ও বিশৃঙ্খল সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক, সুসংহত বাহিনীতে রূপান্তর করে প্রথম সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালের এক মহাক্রান্তিলগ্নে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাবাহিনীকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লাঠিয়াল বাহিনী হওয়া থেকে রক্ষা করে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সেনাপ্রধানদের একজন হিসেবে নিজের নাম খোদাই করে নিয়েছেন। বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতা দখলের দীর্ঘস্থায়ী চশমা ভেঙে তিনি দেখিয়েছেন যে, সেনাবাহিনীর আসল শক্তি বুলেটে নয়, বরং জনগণের আস্থায়। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্রের যাত্রাপথকে মসৃণ করা এবং ক্ষমতার লোভ সংবরণ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা শহিদ জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তাঁকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

  • সালমান ফরিদ: লেখক ও সাংবাদিক।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত