২২ অক্টোবর, ২০২১ ০১:৩২
সিলেটে সাম্প্রদায়িকতা ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নগর শাখার সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাসের সভাপতিত্বে ও ছাত্র ইউনিয়ন মহানগরের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান প্রান্তিকের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন সিলেটের প্রবীন রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, সিপিবি সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলার সমন্বয়ক ও ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) জেলা সভাপতি সিরাজ আহমদ, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফর, বাংলাদেশ সাম্যবাদী আন্দোলন মহিতোষ দেব মলয়, যুব ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন দাস খোকন, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নাবিল এইচ, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন সভাপতি অ্যালিজেক, মণিপুরী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সজল সিনহা, ছাত্রফ্রন্ট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া নওশীন তাসনিম, ছাত্রফ্রন্ট মহানগরের আহ্বায়ক সঞ্জয় শর্মা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেটের সংগঠক আয়েশা আক্তার, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মনীষা ওয়াহিদ প্রমুখ। এ সময় সংহতি জানিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সিলেট ও সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন সিলেট।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় গুজবকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যে তান্ডব চলেছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। কুমিল্লার ঘটনার পর পর যদি সরকার সঠিক পদক্ষেপ নিত তাহলে সারাদেশে এ তান্ডব চলানো সম্ভব ছিল না। তাই এর ঘটনার দায়ভার সরকার এড়াতে পারে না।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে গত ৯ বছরে দেশে হিন্দু ধর্মালম্বীদের উপর প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ঘটনার বিচার হচ্ছে না। ফলে দেশে একের পর এক সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে।’
বক্তারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে আমরা একটি রুদ্ধ সময় পার করছি। যেখানে কথা বলার স্বাধীনতা নেই, রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই। বর্তমান সরকার মুখে প্রগতিশীলতার কথা বললেও আমরা দেখেছি হেফাজতের প্রেসক্রিপশনে পাঠ্যসূচি থেকে প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। বার বার এ সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপোষ করছে। ফলে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো বার বার আমাদের সংবিধান, সংস্কৃতি ও উৎসবে হামলা চালানোর সাহস পায়।’
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি অংশুমান দত্ত অঞ্জন, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ডা. হরিধন দাস, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সদস্য মতিউর রহমান, চারণ সিলেটের সংগঠক নাজিকুল রানা, ছাত্র ফ্রন্ট নগর শাখার সাবেক সভাপতি রেজাউর রহমান রানা, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি সহিদুজ্জামান পাপল প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য