২৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:১৭
সারাদেশের মতো সিলেটেও কমতে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যাও কমেছে।
মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনা শনাক্তের হার ছিল শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ। যা সিলেট জেলায় শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ।
এদিকে সিলেটের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মঙ্গলবার রোগী ভর্তি ছিল ধারণক্ষমতার ৮ শতাংশ। ফলে হাসপাতালটিতে খালি রয়েছে ৯২ শতাংশ শয্যা। রোগী কম থাকায় হাসপাতালটির ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট আর থাকছে না। সেখানে ৪৫ শতাংশ করোনা রোগীর জন্য বরাদ্দ রেখে ৫৫ শতাংশ সাধারণ রোগীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে এমন তথ্য জানিয়েছেন হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, রোগী কমে আসায় করোনা রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালে আগের মতো সাধারণ রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বহির্বিভাগে রোগী দেখা শুরু হবে। পরবর্তীতে রোগী ভর্তিও নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিলেন ৮ জন। যাদের মধ্যে ২ জন করোনা পজিটিভ রোগী। আর বাকী ৬ জন রোগী ছিলেন করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এই ৮ জন রোগীর মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন তিন জন রোগী। যাদের একজন করোনা পজিটিভ। বাকি ২ জন করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসিইউতে আছেন। এই ৮ রোগী ছাড়া ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিই ৯২ শয্যাই রয়েছে খালি।
এর আগে গতবছর দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুতে সিলেটে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সিলেটে কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে অস্থায়ীভাবে ১১টি আইসিইউ শয্যাও স্থাপন করা হয়। এছাড়া গেল বছরের ডিসেম্বরে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ১০ হাজার লিটারের সেন্ট্রাল প্ল্যান্ট।
তবে গত কয়েকমাস ধরে সিলেটে করোনার সংক্রমণ কমে আসায় সরকার ঘোষিত এই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমেছে। একইসাথে ফাঁকা হতে শুরু করেছে আইসিইউ বেডও। অন্যদিনে হাসপাতালে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে সাধারণ রোগীদের। এমন অবস্থায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোভিড রোগীদের পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ ব্যাপারে ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু এখন করোনা সংক্রমণ কমে এসেছে, তাই কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালটিতে কোভিডের পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা চালু করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালটিতে ৪৫ শয্যার একটি কোভিড ইউনিট রাখা হচ্ছে। হাসপাতালটিতে কোভিড চিকিৎসায় ৩ নং ও ৪ নং ওয়ার্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একইসাথে ১১ বেডের আইসিইউ শয্যা শুধুমাত্র করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আমরা হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু করবো। প্রথমে মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগে রোগী দেখার মধ্যে দিয়ে বহির্বিভাগ চালু করা হবে। পরবর্তীতে দন্ত বিভাগও খুলে দেয়া হবে সাধারণ রোগীদের জন্য। পর্যায়ক্রমে চর্মরোগ বিভাগ, শিশু বিভাগও খুলে দেয়া হবে। পরবর্তীতে রোগী ভর্তি ও অস্ত্রোপচারের মতো সেবাও দেওয়া হবে।’
আপনার মন্তব্য