২৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ২০:৪২
কঠোর নিরাপত্তা, উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজে রবিবার সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টা থেকে উপজেলার ৯৫টি ভোটগ্রহণ শুরু হবে, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ১০ ইউনিয়নে ১লাখ ৫৭ হাজার ভোটার নির্বাচন করবেন ১৩০ জনপ্রতিনিধি।
জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে আবার ৪২৫টি বুথে ভোটগ্রহণ করার প্রস্তুতি শেষ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এখানকার ৭৮১০১জন পুরুষ এবং ৭৯৫০১জন মহিলার সমন্বয়ে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিন ১০জন চেয়ারম্যান, ৯০জন সাধারণ সদস্য এবং ৩০জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচন করবেন ভোটাররা। ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার রয়েছেন চারখাই ইউনিয়নের চারখাই উচ্চ বিদ্যালয়ে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯৭৫জন। আর সর্বনিম্ন ভোটার সংখ্যা লাউতা ইউনিয়নের বাউরভাগ গ্রামের একটি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্রের। এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫৫০জন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৩জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এদিন দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে চেয়ারম্যান পদে মূল লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীদের নাম বলছেন ভোটাররা। তাদের দেয়া তথ্যমতে, উপজেলার আলীনগরে মূল লড়াইয়ে মামুনুর রশীদ (ঘোড়া) ও আহবাবুর রহমান খান শিশু (নৌকা), চারখাইয়ে মাহমুদ আলী নৌকা) ও হোসেন মুরাদ চৌধুরী (আনারস), শেওলায় জহুর উদ্দিন (নৌকা) ও আখতার হোসেন খান জাহেদ (আনারস), দুবাগে মাওলানা মোস্তাক আহমদ (মোটর সাইকেল) ও জালাল আহমদ (চশমা), কুড়ারবাজারে আবু তাহের (আনারস) ও তুতিউর রহমান তোতা (অটোরিকশা), মাথিউরায় কছির আলী আব্দুর রব (আনারস) ও আমান উদ্দিন (নৌকা), তিলপাড়ায় মাহবুবুর রহমান (চশমা) ও এমাদ উদ্দিন (নৌকা), মুড়িয়ায় হুমায়ুন কবির (নৌকা)-ফরিদ আল মামুন (চশমা) ও রুহুল আমীন (আনারস), মুল্লাপুরে এম এ মান্নান (আনারস) ও আব্দুল করিম (ঘোড়া) এবং লাউতায় এম এ জলিল (নৌকা)-গৌছ উদ্দিন (আনারস) ও দেলোওয়ার হোসেন (ঘোড়া) শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। মূলত: এদের মধ্য থেকেই নির্বাচিত হবেন ১০জন চেয়ারম্যান। যাদের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে তৃণমূলের উন্নয়ন।
এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কোথাও যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য তৎপর রয়েছে পুলিশ। তফশিল ঘোষণার পর থেকে এখনো পর্যন্ত উপজেলার কোথাও বড় ধরণের কোন অনিয়ম-অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। একইসাথে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতিও আদায় করছে প্রশাসন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন জানান, শুক্রবার রাত থেকেই প্রচারণা শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। শনিবার বিকেলে মধ্যে সকল কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। সকালে ৮টার আগে ব্যালট কেন্দ্র কেন্দ্র পৌঁছানো হবে।
আপনার মন্তব্য