জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

০১ জুলাই, ২০২২ ২৩:২৮

জগন্নাথপুরে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে দুশ্চিন্তা

দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ১০ জুলাই দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা। বিপাকে আছে বিক্রেতারা।সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরেও শুরু হয় কোরবানির পশুর হাটের তোড়জোড়। দেশের নানাপ্রান্ত থেকে পশু আনা-নেয়া শুরু হয় জগন্নাথপুর বাজারে এবার নেই হাট, বিক্রেতারা বর্তমানে পশুর হাট ব্রিজ থেকে এলাকার মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

চলমান বন্যায় তছনছ করে দিয়েছে সব। খামারিরা থেকে শুরু করে ক্রেতা, সবাই বন্যার সাথে এখনো রীতিমত যুদ্ধ করছেন। আসন্ন ঈদুল আযহার কোরবানির হাটেও সেই প্রভাব থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জগন্নাথপুরে সাধারণত ঈদের ১০-১৫ দিন আগে থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো সাজানোর প্রস্তুতি নেন ইজারাদাররা। এখানকার পৌরশহরের একমাত্র পশুর হাট অস্থায়ীভাবে কোরবানির ঈদের আগে বসে। এছাড়াও রসুলগঞ্জ, রানীগগঞ্জ, ভবের বাজার, সৈয়দপুর বাজার, স্থায়ী পশুরহাট বসানো হয়। কোরবানির ঈদকে ঘিরে এসব স্থায়ী পশুর হাটেও প্রস্তুতি নেন ইজারাদাররা। তবে এবার সেই প্রস্তুতিতে ভাটা রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার রমজানের পর থেকে গরুর দাম বাড়তি। কোরবানির হাটেও সেই প্রভাব থাকবে। পাশাপাশি চলমান বন্যার প্রভাবও পড়বে পশুর হাটে। অর্থাৎ গরুর দাম এবার বেশি হতে পারে। সাধারণত এ সময়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পশু এনে জড়ো করতেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখনো পর্যন্ত মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পশু ব্যবসায় বিনিয়োগ করার ঝুঁকি নেননি।

সরেজমিনে শুক্রবার (১জুলাই) বিভিন্ন যায়গায় গুড়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদের আর বেশি সময় না থাকলেও রসুলগঞ্জ, রানীগঞ্জ, ভবের বাজার, সৈয়দপুর বাজার পশুর হাটের জায়গায় বন্যার পানি ওঠেছে।

জগন্নাথপুর বাজারের ইজারাদার হাটের মকবুল হোসেন ভূঁইয়া জানান, কোরবানির পশুর হাট নিয়ে আমরা চিন্তিত। বন্যার এই সময়ে পশু কেনাবেচা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।

তিনি বলেন, এখনো কোরবানির হাট বলতে যা বোঝায় তা শুরু হয়নি। সপ্তাহখানেক পরে হাট জমে উঠবে। তিনি বলেন, এছাড়া এমনিতেই গরুর খাবারের দাম বেড়েছে। নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। তাই গরু-ছাগলের দামও বাড়বে।

পশুর খামারি ফারুক বলেন, দেশের অন্যান্য স্থান থেকে গরু ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না। আমরাও পশু আনা-নেয়া করতে পারছিনা। তিনি বলেন, এবার গরুর চাহিদা অনুযায়ী সাপ্লাই কম।

সফিউল নামে স্থানীয় এক গরু ব্যবসায়ী বলেন, গরু লালন-পালনে খরচ বেড়েছে। হাটেই নিয়মিত ৩ জন রাখালসহ ৫-৬ জনের শ্রম যাচ্ছে। প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টাকা দিতে হয় রাখালদের। গরুর দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন, চাহিদা বেশি থাকে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর। তাই এবার বিশেষ চাহিদার এসব গরুর দাম বাড়তি থাকবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার পৌরশহরের পশুর হাটে পানি নেই, অন্যগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় বিকল্প স্থান খোঁজা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত