রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর

৩১ জুলাই, ২০২২ ১৮:৪২

বন্যায় ব্যাহত আউশ চাষাবাদ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বন্যার কারণে আউশধান চাষাবাদ বিঘ্নিত হয়েছে। বন্যায় বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় এবার উপজেলায় আউশ ধান চাষাবাদ হয়নি। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান রবিবার (৩১জুলাই) বলেন, তিনি ৫ কেদার জমিতে আউশধান চাষাবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বীজতলা তৈরি করেন। গত ১৭ জুন ভয়াবহ বন্যায় আউশধানের বীজতলা তলিয়ে যায়। ফলে এবার আউশধান চাষাবাদ করতে পারিনি।

উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের মীরপুর গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন জানান, আমার সাত কেদার জমিতে শুধু আউশধান চাষাবাদ করা হয়। এবার দুই দফা বীজতলা তৈরি করে বন্যার কারণে বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় আউশধান চাষাবাদ করতে পারিনি।

তিনি বলেন, আউশধান চাষাবাদের ওপর তার সারা বছরের খাবার জোগাড় হয়ে থাকে। তাই এবার তিনি চিন্তিত।

কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় তিন হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আউশধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রথম দফা ৫৩০ হেক্টর ও দ্বিতীয় দফা ১৫০ হেক্টর বীজতলা তৈরি করা হয়। দুই দফা বন্যায় সব বীজতলা তলিয়ে যায়।


হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আউশধান চাষাবাদের জন্য বৈশাখ মাসে বীজতলা তৈরি করা হয়। জ্যেষ্ঠ মাসের শেষ দিকে চারা জমিতে রোপণ করা হয়। ভাদ্র মাসে ফসল কর্তন করা হয়। এবার জ্যেষ্ঠ মাসের শেষ দিকে বন্যার কারণে বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় আউশধান চাষাবাদ করা যায় নি। ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষকদের প্রণোদনা দিতে তিনি দাবি জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, বন্যার কারণে বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় এবার উপজেলায় আউশ ধান চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি। ফলে ৩৮০০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কোন চাষাবাদ করা যায় নি।

তিনি বলেন, চাষাবাদ করা গেলে কমপক্ষে ১০ হাজার মেট্রিকটন ধান উত্তোলন করা যেত।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত