জীবন পাল

১০ আগস্ট, ২০২২ ২১:১২

বাসের ভাড়া বৃদ্ধি, সিলেটে ট্রেনে বেড়েছে যাত্রীর চাপ

জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেড়েছে বাসের ভাড়া। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। স্বল্প আয়োর যাত্রীরা ভিড় করছেন ট্রেনে। ফলে সিলেটের রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে বেড়েছে যাত্রীরা চাপ।

শনিবার (৬ আগষ্ট) শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট আসেন চা বাগানের কর্মকর্তা প্রিতম। আসার সময় হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসে ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছেন। অথচ রোববার(৭ আগষ্ট)  শ্রীমঙ্গল ফিরে যাবার সময় সেই হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাসে ভাড়া দিয়ে যেতে হয় ১৮৫ টাকা।

প্রিতম বলেন, ব্যক্তিগত কাজে ঘনঘন সিলেট আসতে হয়, কিন্তু এত ভাড়া দিয়ে বাসে যাতায়াত করাটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। ট্রেনে যেখানে ১১০ টাকা ভাড়া দিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে সিলেট আসা-যাওয়া করা যায়, সেখানে ১৮৫ টাকা দিয়ে যাতায়াত করাটা আমার মত যাত্রীদের অন্য অতিরিক্ত বলে মনে করছি।

এই যাত্রীর মতে, ভাড়া বৃদ্ধিতে ট্রেনের যাত্রী বাড়বে। কেন না, ট্রেনের ভাড়া বাসের ভাড়ার তুলনায় অর্ধেক।

শুধু প্রিতম নয়, তার মতো অনেকেই বাস ভাড়া বৃদ্ধিতে ট্রেনে যাতায়াত করার দিকে ঝুঁকছে।

সরেজমিনে সিলেট স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আগের তুলনায় যাত্রীদের ভীড় অনেকটা বেড়ে গেছে।  কিছুটা ঈদে ঘরমুখো মানুষের মতোই অবস্থা।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বাস ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ট্রেনের যাত্রী চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। যাত্রী ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে প্রচুর স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হচ্ছে।

কথা বলে জানা যায়, পাহাড়িকা, উদয়নে দিগুণের চাইতেও বেশি টিকিট বিক্রি হচ্ছে।  ট্রেনের ভাড়া বাড়লেও চাপটা কমবে না বলেও আশাবাদী তিনি।

শ্রীমঙ্গল স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ৪০ টি আসনের স্থলে টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০০- ১২০ টি। সিস্টেম না থাকলেও যাত্রীদের যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেই এত স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ট্রেনে যাত্রী চাপ আগে থেকে থাকলেও তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে চাপটা আরো বেশি বেড়েছে।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু নাসের মোহাম্মদ রাসেল জানান, তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে গত রোববার থেকে ট্রেনের যাত্রী চাপ আগের তুলনায় বেড়েছে। বাসে ভাড়া যেহেতু প্রায় দিগুণ হয়ে গেছে, আর সেই তুলনায় ট্রেনের ভাড়া যেহেতু কম সেজন্য স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে দাঁড়িয়ে হলেও যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াত করছেন।

তিনি জানান, আগে যেখানে সামান্য স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া লাগতো। সেখানে এখন দেখা যাচ্ছে চাহিদার কারণে প্রচুর স্ট্যান্ডিং টিকিট দিতে হচ্ছে যাত্রীদের অনুরোধে। বিশেষ করে রোড সাইডের যাত্রীরা আমাদেরকে অনুরোধ করো স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে হলেও দাঁড়িয়ে যাবার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এতে করে দেখা গেছে আমাদের নির্দিষ্ট কোটার বাইরেও স্ট্যান্ডিং টিকিট দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেখা গেছে কুলাউড়ায় আমাদের টিকিট বরাদ্দ ১০০ টি। সেটার পরেও আরো ১০০-১৫০ টি স্ট্যান্ডিং টিকিট দিতে হচ্ছে। আবার শ্রীমঙ্গলের ৪০-৫০ টি টিকিট বরাদ্দ। সেখানে এখন এর থেকে ডাবল স্ট্যান্ডিং টিকিট দিতে হচ্ছে। তবে যারা ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম যাবেন তাদের কিন্তু এভাবে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ পথ যাতায়াত করা সম্ভব নয়।

সিলেট থেকে মোট ৬ টি আন্তঃনগর  ট্রেন ছেড়ে যায়। যার মধ্যে কালনী এক্সপ্রেস ভোর ৬:১৫ মিনিটে (শুক্রবার বন্ধ) , পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস সকাল ১০:১৫ মিনিটে (শনিবার বন্ধ), জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস সকাল ১১:১৫ মিনিটে (বৃহস্পতিবার বন্ধ), পারাবত এক্সপ্রেস বিকেল ৩:৪৫ মিনিটে (মঙ্গলবার বন্ধ), উদয়ন এক্সপ্রেস রাত ৮:৩০ মিনিটে (রবিবার বন্ধ) এবং উপবন এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ১১: ৩০ মিনিটে (সোমবার বন্ধ) সিলেট স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়।

ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যাত্রী ও বাস মালিকদের বর্তমান অবস্থাটা জানতে চাইলে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ মৌলভীবাজার আঞ্চলিক শাখার সুপারভাইজার মো. হাসানুল হক রিমন জানান, যাত্রীদের বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে যে ডিজেলের লিটার প্রতি ৩৪ টাকা বৃষ্টি হওয়ার কারণেই আমাদের এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাত্রীদের বুঝিয়ে বললে যাত্রীরা বুঝেন। এটা নিয়ে এখন পর্যন্ত যাত্রীদের সাথে আমাদের কোন ঝামেলা হয়নি। তবে আমরা চাচ্ছি যেন তেলের দামরা দ্রুত কমে যায়। যাতে করে আমরাও যাত্রীদেরকে কম ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা করে দিতে পারি।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী জানা যায়,  সিলেট - হবিগঞ্জ ভাড়া বৃদ্ধির পূর্বে ভাড়া ছিল প্রতি কিলোমিটার ১.৮০ পয়সা। বাস স্টপেজগুলোর ভাড়া ছিল যথাক্রমে - সিলেট-শেরপুর ৬৬.৬ পয়সা, সিলেট-মৌলভীবাজার ১১৩.৪ টাকা,সিলেট-শ্রীমঙ্গল ১৫১.২ টাকা,সিলেট-মীরপুর ১৯৪.৪ টাকা,সিলেট-শায়েস্তাগঞ্জ ২০৩.৪ টাকা,সিলেট-হবিগঞ্জ ২৩০.৪ টাকা।

এদিকে ভাড়া বৃদ্ধির পর সিলেট-হবিগঞ্জ ভাড়া নির্ধারন করা হয় প্রতি কিলোমিটার ২.২০ পয়সা। বাস স্টপেজগুলোর বর্তমান ভাড়া যথাক্রমে - সিলেট-শেরপুর ৮১.৪ টাকা, সিলেট-মৌলভীবাজার ১৩৮.৬ টাকা,সিলেট-শ্রীমঙ্গল ১৮৪.৮ টাকা,সিলেট-মীরপুর ২৩৭.৬ টাকা,সিলেট-শায়েস্তাগঞ্জ ২৪৮.৬ টাকা, সিলেট-হবিগঞ্জ ২৮১.৬ টাকা।

বাইপাসে সিলেট থেকে হবিগঞ্জের পূর্বে ভাড়া ছিল ১৮০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধির পরে নতুন ভাড়া নির্ধারনের পর বর্তমান ভাড়া ২২০ টাকা।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শঙ্ক শুভ্র রায় জানান, যেহেতু তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে সেহেতু সাধারণ মানুষ তা মেনে নিয়েছে। যাত্রীরা এখন পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে কোন ঝামেলা করেনি। করার কথাও না। কেননা, আমরা প্রত্যেক বাসে আমাদের নির্ধারন করে দেওয়া ভাড়ার তালিকা দিয়ে দিয়েছি। যাতে করে চালক, কন্ট্রাকটরদের সাথে যাত্রীদের কোন ধরনের কথা-কাটাকাটি বা ঝামেলার সম্মুখীন হতে না হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত