নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ আগস্ট, ২০২২ ১৩:১০

বন্যা শেষে আগের রূপে ফিরছে সুনামগঞ্জ, বাড়ছে পর্যটক

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ। আর এই জেলার সৌন্দর্যকে সারাবিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে এই অঞ্চলের পর্যটন স্পটগুলো। তার মধ্য অন্যতম সৌন্দর্যের লীলাভূমি হল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর। তবে দুই দফার বন্যায় ক্ষতিরমুখে পড়ে জেলার পর্যটন শিল্প।

বন্যার ধাক্কা কাটিয়ে এজন্য অনেকটাই নতুন করে সেজে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওর। কিন্তু এখনও খুব বেশি পর্যটকের দেখা নেই এখানে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশা, খুব শিগগির পর্যটন স্পটগুলোয় মানুষের আনাগোনা আরও বাড়বে।

দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রাকৃতিক বন, পরিযায়ী ও দেশি পাখির নিরাপদ আবাসস্থলও এটি। তাই ভারত সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মেঘ-পাহাড় আর হাওরের দিগন্তজোড়া জলরাশি দেখতে প্রতিবছর ঢল নামে হাজারো পর্যটকের। হাওর বিলাস আর আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠেন পর্যটকরা। এখানকার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখতে এখানে প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পর্যটক আসেন।

সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার বিশাল এলাকা নিয়ে এই হাওরের অবস্থান। হাওরের ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল ও নালা। বর্ষায় সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। হাওরের উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড়। এই পাহাড় থেকে ৩৮টি ঝরনা নেমে এসে মিশেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে।

এদিকে গত ১৬ জুনের পর এক মাসেরও বেশি সময় হাওরে অস্বাভাবিক পানি থাকায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে পানি সরার পর ৩ আগস্ট থেকে পর্যটনের দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যটকদের মানতে হবে একাধিক শর্ত।

এখানে ঘুরতে আসা অনেক পর্যটক যেমন নৌকা ভাড়া নিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেন, তেমনি অনেক পর্যটক হাওরে বসে খাবার খেয়ে সেই উচ্ছিষ্ট ফেলে হাওরের সৌন্দর্য নষ্ট করেন। এসব রোধে এ বছর ১২ শর্ত মেনে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুরের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরতে হবে। সেই শর্ত লঙ্ঘন করলে পর্যটকবাহী নৌযানের নিবন্ধন বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- হাওরে ভ্রমণকালে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিতে হবে, রওনা হওয়ার আগে তাহিরপুর থানায় নিরাপত্তার জন্য জিডি করা, যে কোনো কিছু কেনার আগে দামাদামি করে নেওয়া, গ্রুপ করে যাওয়া, হাওরে বজ্রপাত হলে নৌকার ছৈয়ের নিচে অবস্থান করা।

এছাড়াও খাবারের উচ্ছিষ্ট পানিতে না ফেলা, উচ্চ শব্দ ব্যবহারকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করা, রাতের বেলা অতিরিক্ত আলো না জ্বালানো, টাঙ্গুয়ার জীব বৈচিত্র্য হুমকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা, নৌযানকে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন, নিবন্ধনপত্র হস্তান্তরযোগ্য নয়, নিবন্ধনপত্র সার্বক্ষণিক নৌযানে প্রদর্শন করতে হবে। এসব শর্ত মেনে পর্যটক ও পর্যটকবাহী নৌ-চলাচল করতে হবে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটক ধ্রুব বলেন, ভয়াবহ বন্যায় সুনামগঞ্জের অন্য পেশাজীবীদের মতো পর্যটনের সঙ্গে জড়িতরাও সংকটে পড়েছেন। পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। আশা করি, তাঁদের সংকট কেটে যাবে।

নৌযান মালিক তাহির মোহাম্মদ তৌকির জানান, অনেক মানুষ মনে করছেন সুনামগঞ্জে এখনও বন্যা চলছে। আমরা অনেক কল পাই, যেখানে পর্যটকরা জিজ্ঞেস করেন, সুনামগঞ্জে বন্যা চলছে কিনা। তাই এই বিষয়টি তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হবে যে, এখানে বন্যা পরিস্থিতি অনেক আগেই শেষ।

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবিকুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে পর্যটকের ভিড় থাকত। পর্যটকবাহী নৌকা আগে থেকেই বুকিং থাকত। এবার ঘাটের ট্রলারগুলো বসা আছে। বন্যার সময় কিছু লোকজন আটকা পড়ায় ভীতি ছড়িয়েছে। এরপর কিছুদিন প্রশাসন পর্যটকদের টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে বাধা দেওয়ায় পর্যটক আগমনে ভাটা পড়েছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এখন আমাদের নদী এবং হাওরের পানি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। এখন আসলে নির্বিঘ্নে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। ইতোমধ্যে শর্ত মেনে পর্যটকরা টাঙ্গুয়ার হাওরে আসতে শুরু করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত