১৬ আগস্ট, ২০২২ ০২:৫০
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস দায়সারাভাবে পালন করেছে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে সামাজাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা চলছে। এতে শিক্ষকসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দাবি তারা যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করেছেন।
অন্যদিকে দায়সারাভাবে শোকদিবস পালনের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে জানিয়ে বড়লেখা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের মতো বড়লেখা উপজেলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধানদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যানার ও শোক দিবস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আলোচনাসভাসহ অনুষ্ঠান করারও কথা। কিন্তু কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তার উল্টোটা ঘটেছে। এগুলোতে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দায়সারাভাবে দিবসটি পালন করেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিওসি কেছরিগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাতুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়লেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এদিকে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোক দিবস পালনের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যানার টানিয়ে যথাযথভাবে অনুষ্ঠান পালন করার কথা থাকলেও এই চারটি প্রতিষ্ঠান ব্যানার ব্যবহার করেনি। শ্রেণি কক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে চক দিয়ে ‘‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস’’ লিখে দায়সারাভাবে অনুষ্ঠান করে ফেসবুকে ছবি দিয়েছেন বিওসি কেছরিগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর মুহিবুর রহমান। এরকম লিখে দায়সারা অনুষ্ঠান করেছে বড়লেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও।
ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সোনাতুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যানার বিহীন ফটোসেশন করে ফেসবুকে ছবি আপলোড করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘বড়লেখা উপজেলার প্রায় সব বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনায় যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে। ব্যানার করে অনুষ্ঠান করার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চারটি প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনোরকমে ফটোসেশন করে ফেসবুকে ছবি ছেড়েছেন। দুটি প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে ‘‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস’’ লিখে ছবি দেওয়া হয়েছে।
‘‘কার শোক দিবস পালন হচ্ছে তাও উল্লেখ করা হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম ও ছবি সম্বলিত ব্যানারটা তারা ব্যবহার করেননি। এটা অবশ্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এখানে চরম দৃষ্টতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’’
বিওসি কেছরিগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর মুহিবুর রহমান বলেন, ‘‘শহর থেকে আমার বিদ্যালয় অনেক দূরে। অনুষ্ঠানের দিন সকালে দোকান বন্ধ থাকায় ব্যানার নিতে পারিনি। তবে অনুষ্ঠান যথাযথভাবে করেছি।’’
ছোটলেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ কুমার দত্ত। তিনি এরআগেও একাধিকবার জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান পালন করেননি। একবার ‘‘ভাষা দিবসে’’ শহীদ মিনারের অবমাননা করে ফেসবুকে ছবি দেন। এ নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে মৌখিকভাবে তাকে সতর্কও করা হয়। এবারও জাতীয় শোক দিবসেও তিনি দায়সারা আয়োজন করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতাপ কুমার দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘অনুষ্ঠান যথাযথভাবে করেছি। যদি আপনার মনে হয় অনুষ্ঠান হয়নি, তা হলে আমার বিরুদ্ধে পেপারে নিউজ করে দেন।’’
সোনাতুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বড়লেখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
বড়লেখা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘‘চারটি প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা অনুযায়ী না করে দায়সারাভাবে অনুষ্ঠান করার বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান যেভাবে পালন করার কথা সেভাবে তারা করেন-নি। ব্যানার দিয়ে যথাযথভাবে অনুষ্ঠান করার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বাবদ টাকাও বরাদ্দ দেওয়া আছে।
‘‘দুটি প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে ‘‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস’’ লিখে যে ছবি দেওয়া হয়েছে তাতে কার শোক দিবস পালন হচ্ছে তা উল্লেখ নেই। অবশ্যই জাতির জনকের নাম ও ছবিসহ শোক দিবসের ব্যানার দিয়ে অনুষ্ঠান করার কথা। এটা চরম দৃষ্টতার বহিঃপ্রকাশ করেছেন এ শিক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। ইউএনও স্যার প্রতিষ্ঠান প্রধানদের শোকজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের শোকজ করা হবে।’’
আপনার মন্তব্য