০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ২১:১১
মৌলভীবাজারের মনু প্রকল্পের কাশিমপুর পাম্প হাউস এলাকার কাউয়াদীঘি হাওরে ফের পানি বাড়ায় উদ্বিগ্ন আমনচাষিরা। নতুন করে রোপণ করা আমন জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার চার-পাঁচটি ইউনিয়নের দুই শতাধিক একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় হাওরপাড়ের কৃষকরা।
জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নজুড়ে কাউয়াদীঘি হাওরের অবস্থান। প্রায় প্রতি বছর আগাম বৃষ্টির ফলে কাউয়াদীঘি হাওরের ফসল তলিয়ে যেত এবং শুষ্ক মৌসুমে খরায় নষ্ট হতো। খরা ও জলমগ্ন হওয়ার প্রকোপ থেকে কৃষি ও কৃষিজীবীদের রক্ষায় মনু প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ উদ্যোগে রাজনগরের কাশিমপুরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আটটি পাম্প বসানো হয়। একই সঙ্গে এর পাশে ৬ ও ৩ ব্যান্ড রেগুলেটর গেট স্থাপন করা হয়।
বানের পানি ও ঘন ঘন বৃষ্টির ফলে কাউয়াদীঘি পাড়ের সদর উপজেলার একাটুনা, আখাইকুঁড়া, রাজনগর উপজেলার ফতেপুর, পাঁচগাঁও, উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের অন্তত সাড়ে তিন হাজার হেক্টর আমন জমি ও বীজতলা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতে কাউয়াদীঘি হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার একাটুনা, মল্লিকসরাই, বড়কাপন, বানেশ্রী, রায়পুর, বিরামাইবাদ, উলুআইল, কচুয়া, বুড়িকোনা, কান্দিগাঁও, কাদিপুর, জগৎপুর, রাজনগরের আমিরপুর, মধুরবাজার, রক্তা, ভানুরমহল, পাঁচগাঁওয়ের নিম্নাঞ্চল, আব্দুল্লাহপুর, জাহিদপুর, কাশিমপুর এলাকার অন্তত দুই শতাধিক একর জমিতে সদ্য রোপণ করা আমন তলিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সোমবার মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আব্দুল হান্নান খান জানান, কৃষি বিভাগের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে পানি সেচ বন্ধ ছিল। তবে কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বাড়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিপ ব্যান্ড রেগুলেটরের ছয়টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাশিমপুর পাম্প হাউসের দুটি পাম্প সচল করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে লোড বাড়িয়ে দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় ফেঞ্চুগঞ্জের বিদ্যুৎ সরবরাহে লাইনের কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে দ্রুত লোড বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। লোড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আটটি পাম্পই সচল করা হবে।
আপনার মন্তব্য