২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৫৩
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন সিলেটের জ্যেষ্ঠ ফটো সাংবাদিক ও এসএ টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট বদরুর রহমান বাবর।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে এর সত্যতা ও কারিগরি দিক তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আরজি অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল উত্তর বালুচর এলাকায় অবৈধ টিলা কাটার একটি সচিত্র প্রতিবেদন এসএ টিভিতে প্রচার করেন সাংবাদিক বাবর। এর জের ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে আধুনিক ‘এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাদীর ছবি দিয়ে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি তৈরি করে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও আইডি থেকে ছড়িয়ে দেয়।
মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন: জালাল উদ্দিন (৫৫), জাহাঙ্গীর মিয়া (৩০), শাকিল আহমদ (২৩), আহমদ ইউসুফ ওরফে ইউসুফ আলী ও শাহিন মিয়া (২৬)। অভিযুক্তরা সকলেই সিলেট নগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন উত্তর বালুচর জোনাকী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা।
এছাড়া এই অপপ্রচারে ব্যবহৃত 'Ma Talukdar', 'ব্যাটারী গল্লি', সিলেট বালুচরের নিউজ', 'Princce Masud Aj', 'তরা সব কটি দালাল' এবং 'ন্যায় বার্তা' নামক ফেসবুক পেজগুলোর পরিচালকদেরও আসামি করা হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী মুহাম্মদ তাজউদ্দীন জানান, “আসামিরা ডিজিটাল প্রযুক্তির চরম অপব্যবহার করে একজন পেশাদার সাংবাদিকের চরিত্র হননের চেষ্টা করেছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৩-এর অধীনে একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছি। আদালত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের ভার দিয়েছেন।”
সাংবাদিক বদরুর রহমান বাবর বলেন, “আমি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকে যেভাবে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি এই ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকা মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই যাতে ভবিষ্যতে কেউ ডিজিটাল মাধ্যমে এমন নোংরামি করার সাহস না পায়।”
আপনার মন্তব্য